
বছরের পর বছর নদী ভাঙ্গনে বসতভিটা ও বাপ দাদার কবরস্থান হারা নদী অঞ্চলের মানুষ গুলো। বছর বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে লোক দেখানো কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহনে বরাবরি উদাসিন তারা। স্থানীয়দের দাবী করে বলেন, নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহন করলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বার বার বরাদ্দ নিতে পারবে না আর লুটপাট বন্ধ হয়ে যাবে। সেকারণে তারা স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহন করে না। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানিতে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ। ফলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েও পড়েছেন নানা বিড়ম্বনায়। গরু, ছাগল হাঁস-মুরগী অল্পমূল্যে বিক্রি করতে পারলেও ঘর-বাড়ির আসবাপপত্র সরিয়ে নেওয়ার আগেই বাড়ি-ভিটা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন নদী পাড়ের মানুষগুলো।
আজ ৬ জুলাই শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ঐতিহ্যবাহী কামারজানি বন্দরের ১’শ গজ উত্তরে গোঘাট গ্রাম। আর এই গ্রামটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য বসতবাড়ি। আর এসব বসতবাড়িতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ নদী ভাঙন দেখার কথা যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তারাসঠিক তদারকী করেনি। ফলে গ্রামটি গিলে ফেলেছে ব্রহ্মপুত্র। এখন যেসব বসতবাড়ি রয়েছে তারাও অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন। কেউ বা বসতবাড়ির গাছ কাঁটছেন, কেউ বা টিনের ছাউনি খুলছেন। অনেকে আবার শেষ সম্বল ঘরটি যত্ম সহকারে সরিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জানান, গত তিন বছর আগেও গ্রামটিতে ছিল প্রায় ১০’হাজার মানুষের বসবাস। সন্তানদের শিক্ষার জন্য ছিল একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নামাজ পড়ার জন্য ছিল মসজিদ, প্রার্থনার জন্য ছিল মন্দির। এছাড়া প্রতি বছর গ্রামটিতে আয়োজন করা হতো বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের। কতই না আনন্দের ছিল গ্রামটি কিন্তু এখন সেটি ব্রহ্মপুত্রের গর্ভে বিলীন।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী ভাঙন রোধে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করে না। নদীতে পানি আসলেই তারা বালির বস্তা ফেলে নদী ভাঙন রোধে দায়সারা কাজ করে আর আমাদের যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়েই যাচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, যেখানে ১’হাজার বালির বস্তা ফেলা দরকার সেখানে তারা ১/২’’শ বালির বস্তা ফেলেই কাজ সারছেন। ফলে কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার সেসব জায়গা ভেঙে গিয়ে বসতবাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল জানান, যে ভাবে নদী ভাঙছে তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গো-ঘাট গ্রাম বিলিন হয়ে যাবে। সেইসাথে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহাবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কামারজানির নদী ভাঙন রোধের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এখনও বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। তবে ভাঙন রোধে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে।