
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ছাড়াই শুরু হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের সাতটি উন্নত অর্থনীতির দেশ নিয়ে গঠিত জোট গ্রুপ অব সেভেন বা জি-৭ সম্মেলন।
এর আগে কানাডা ও ফান্সের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে সম্মেলনের পরিবেশ ও জলবায়ু সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দেয় ট্রাম্প। এর পরেই তিনি কানাডা ত্যাগ করেছেন। তার অনুপস্থিতিতেই এ সম্মেলন শুরু হয়েছে।
এর আগে ক্রিমিয়া অধিগ্রহণের জন্য বহিস্কৃত হওয়া রাশিয়াকে এই গ্রুপে আবারো অংশ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে সরাসরি এই বিরোধীতা করেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের যে সদস্যরা এবারের জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন তাঁরা সরাই এর বিপক্ষে।
এ ছাড়া, ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বাণিজ্য শুল্ক নিয়েও গতকাল শুক্রবারের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। কানাডা বলছে, ট্রাম্প আরোপিত বাণিজ্য শুল্ক ‘অবৈধ’। একইসঙ্গে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বাণিজ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং ইরানকে একটি বিপদ হিসেবে চিহ্নিত করে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য বিষয়ে একটি আলোচনায় অংশ নিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রযুক্তিগত পর্যায়ের এই বৈঠকটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
এমন পরিস্থিতে দুই দিনের জি সেভেন সম্মেলন শেষ হওয়ার আগেই সিঙ্গাপুরের দিকে রওনা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিযেন্ট। সেখানে আরেক সম্মেলনে তিনি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করবেন।
পরিবেশ ও জলবায়ু ইস্যুতে বাকি বিশ্বের সঙ্গে ট্রাম্প আগে থেকেই দ্বন্দ্বে লিপ্ত। ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়ে তিনি সেই দ্বন্দ্ব আরো প্রকট করে তুলেছেন। ওই দ্বন্দ্বের জেরে জি-৭ সম্মেলন শুরুর আগের দিনও ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর সঙ্গে টুইটযুদ্ধ করেন। এ দুই নেতার বিরুদ্ধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের অভিযোগ আনেন এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অন্যান্য বাধা সৃষ্টির অভিযোগ করেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, আগামী মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করা নিয়ে প্রেসিডেন্ট অনেক বেশি ব্যস্ত। জি-৭-এর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করা নিয়ে তাঁর মাথাব্যথা তুলনামূলক কম। জি-৭ নিয়ে ভাবনার পরিসর কম হলেও জোটের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর দাবি, বাণিজ্য ও জলবায়ু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে একঘরে করে ফেলা হয়েছে। তাই কানাডা রওনা হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট প্রশ্ন তোলেন, জি-৭ সম্মেলনে তাঁর যোগ দেওয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু। তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টারা শেষ পর্যন্ত তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন এই বলে, জি-৭ সম্মেলনে একদম যোগ না দিলে বিশ্বনেতারা ধরে নেবেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, সে যুদ্ধ থেকে তিনি পিছু হটেছেন। ফলে ট্রাম্প সম্মেলনে যোগদান একেবারে বাদ দেওয়ার পরিবর্তে পরিবেশবিষয়ক অধিবেশন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন।