
সরকারের বিতর্কিত নির্দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারে কথিত বন্দুকযুদ্ধে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশ হওয়া অডিও নিয়ে তোলপাড় চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অনেকে এটি শেয়ার করে এই অভিযান সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক ও হুমায়ূন আহমেদের জামাতা ড. আসিফ নজরুল এ ব্যাপারে শুক্রবার রাতে তার ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তার সেই পোস্টটি আরটিএনএন এর পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:‘মাদক ব্যবসায়ী সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে দু সন্তানের পিতা একরামুলকে। অডিও টেপ পাওয়া গেছে বলে আমরা জেনেছি এই পাশবিক খুনের বিবরণ। বন্দুকযুদ্ধের নামে না জানি সবার অলক্ষ্যে এমন কতো হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে নিরীহ নিরপরাধ মানুষ! এসব জঘন্যতম অপরাধের বিচার হয় না এদেশে। হবেও না হয়তো কখনো। অসহায়ের মতো আমিও আজকাল ভাবি: আল্লাহর গজব পড়ে না কেন এসব খুনির ওপর!’
উল্লেখ্য, একরামুল নিহত হন গত ২৬ মে। আর মৃত্যুর পর থেকেই তার ইয়াবা চক্রের হোতার পরিচয়টি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আর ৩১ মে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একরামুলের স্ত্রী আশেয়া আক্তার জানান, তার স্বামী যখন নিহত হয়েছেন, সেই সময় মোবাইল ফোনে সংযুক্ত ছিলেন তিনি।
সে সময় মোবাইল ফোনে ধারণ করা ১৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের হৃদয়বিদারক অডিওটি এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।নিন্দার ঝড় উঠেছে মিডিয়া ও সুশীল সমাজে।
আরো পড়ুন…
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কোন আইন নয়: আসিফ নজরুল
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পরেও কেন আন্দোলন হচ্ছে? এ’ প্রশ্ন তুলে আন্দোলনকারীদের হুমকি দেয়া হচ্ছে এবং তাদের সম্পর্কে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে। আমি মনে করি এই প্রশ্ন তোলাটাই বরং উদ্দেশ্যমূলক এবং অন্যায়। আমার এই মন্তব্যের কারণ ব্যাখ্যা করছি নীচে।
কথাগুলো নিজের ফেসবুক পেজ-এ লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরো লিখেছেন-
১. প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কোন আইন নয়। তিনি একশবার কোন কথা বললেও তার কোন কার্যকারিতা থাকবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত এর পক্ষে কোন লিখিত আইন, বিধি, আদেশ, সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন জারি করা না হবে। তিনি সত্যিই কোটা বাতিল বা সংস্কার করতে চাইলে প্রজ্ঞাপন জারি করতে বা কমপক্ষে এর লক্ষে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে এতো দেরি কেন?
২. প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষনা দেয়ার পরেও বিভিন্ন মন্ত্রী এবং কালকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ভিন্ন কথা বলেছেন। তাদের কথায় কোটা নিয়ে আসলে কি হবে বা কবে হবে তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিল করে দিলে তারা ভিন্ন কথা বলেন কিভাবে? তারা কি প্রধানমন্ত্রীর অবাধ্য? নিশ্চয়ই না। তাহলে তাদের কথার পর প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসের মূল্য কতোটুকু থাকে?
৩. কোটা সংস্কার আন্দোলনকে শিবিরিকরনের নতুন উদ্যোগ দেখে এ’নিয়ে সরকারের নিয়ত সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। কোটা বাতিল ঘোষনা করার পর ছাত্রলীগের বিজয় মিছিল করেছে। তাহলে নতুন করে এই প্রচারণার কি ভিত্তি থাকতে পারে?
৪. ছাত্রশিবিরের কেউ কেউ কোটা সংস্কার আন্দোলনে হয়তো থাকতে পারে। কিন্তু এ’নিয়ে ঢালাও গালাগালি তো কোন সমাধান না! তাদের অংশ নেয়া বন্ধ করতে চাইলে জামাত-শিবিরকেে নিষিদ্ধ করুন এবং এই মর্মে একটি আইন করুন যে জামাত শিবিরের কেউ ন্যায়সংগত কোন আন্দোলনেও অংশ নিতে পারবে না এবং তাদের কোন বাকস্বাধীনতা থাকবে না। এ’ধরনের কোন পদক্ষেপ না নিয়ে অযথা চেঁচামেচি করে তো কোন লাভ নেই।
মানুষ এখন অনেক সচেতন। যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থানকে বিজয়ী করুন। গালাগালি, হুমকি, মিথ্যেচার দিয়ে নয়।