বদু কাকা তখন কোথায় ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় অস্ত্রের মুখে তখনকার রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সায়েমকে সরিয়ে নিজেই রাষ্ট্রপতি হয়ে হ্যাঁ না ভোট দিয়েছিলেন। তখন বদু কাকা কোথায় ছিলেন, বলে প্রশ্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সাম্প্রতিক ভারত সফর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলেনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক নিয়ে যেই গডফাদার হোক, তিনি যে বাহিনীরই হোক, এটা আমরা দেখছি না। তাই দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ পর্যন্ত যে কয়টা ঘটনা হয়েছে, মনে হয় না একটাও নিরীহ ব্যক্তি শিকার হয়েছে। গণমাধ্যমে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোকে বাদ দিয়ে শুধু নিহতের ঘটনাগুলোকেই সামনে আনা হচ্ছে। অভিযানে এই পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, কাকে গডফাদার বলছেন? তবে যে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমি যখন যা ধরি, ভালো করেই ধরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য নিয়ে নজরদারি চালিয়ে এরপরই এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো পুরস্কারের প্রতি আমার প্রবৃত্তি নেই। আমি চাই আমার দেশের মানুষ যেন দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারে। আর কোনো পুরস্কারের জন্য লবিস্ট নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্যও নেই আমার। বরং টাকা থাকলে আমার গরিবের মাঝে বিলিয়ে দিতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গ্যাস তুলতে চেয়েছিলেন আমেরিকান কোম্পানী, তা আবার ভারতের কাছে বিক্রি করতে চেয়েছিল, ভারত ও আমেরিকার এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম আমি, খালেদা জিয়া এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মাদক সমাজে একটি ব্যাধির মতো, এই পর্যন্ত দশ হাজারের মতো গ্রেপ্তার হয়েছে, মাদক বিরোধী অভিযানে কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হয়েছে এমন একটি ঘটনা ঘটেনি। আপনারা খুব ভালো করেই জানেন, আমি যখন ধরি ভালো করেই ধরি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ২০০৯ সালে এই ভবন নির্মাণ করার মনস্থির করি। বাংলাদেশ ভবন রক্ষণাবেক্ষণে ১০ কোটি স্থায় তহবিল আমরা গঠন করব। এই তহবিল থেকে অর্জিত লভ্যাংশ থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশের ১০ শিক্ষার্থীকে এমফিল ও পিএইচডি অর্জনের জন্য ফেলোশিপ দেয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে যৌথ ইশতেহারে ‘বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের’ কথা উল্লেখ করা হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির বাংলাদেশ সফরের সময় ২০১৩ সালে এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, এরই অংশ হিসেবে আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থাপত্য অধিদফতর যৌথভাবে এ ভবনটি নির্মাণ করেছে। এতে ২৫ কোটি ভারতীয় রুপি খরচ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মে দুই দিনের সরকারি সফরে কলকাতা যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে শান্তি নিকেতনে বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশে ভবন’ উদ্বোধন করেন।

এ সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ভবনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন এবং বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে সম্মানসূচক ডি-লিট (ডক্টর অফ লিটারেচার) ডিগ্রি গ্রহণ করেন।

সফরে শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এই সফরে বিশ্ব কবি রবীন্দ্রণাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজোড়িত ‘জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ি’ এবং কলকাতায় ঐতিহাসিক ‘নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু’ জাদুঘর পরিদর্শন করেন।