
উত্তর কোরিয়ায় বন্দি তিন মার্কিন নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনার গুঞ্জনের মধ্যেই আচমকা এক সফরে পিয়ংইয়ং গিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের মধ্যে আসন্ন ঐতিহাসিক বৈঠকের ভিত্তি মজবুত করতে পম্পেওর এবারের সফর ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।
ট্রাম্প-কিম বৈঠকের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতেই তার এবারের সফর বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও জানিয়েছেন বলে খবর বিবিসির।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল আগ্রহ অবশ্য তিন মার্কিনিকে ছাড়িয়ে আনা।
‘শুভেচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে পিয়ংইয়ং মার্কিন নাগরিকদের ছেড়ে দেবে বলে বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের দপ্তরও।
পম্পেও বলেছেন, ‘সঠিক কাজটি’ করে উত্তর কোরিয়া আটক তিন মার্কিনিকে ছেড়ে দেবে বলেপ্রত্যাশা করছেন তিনি।
তিন বন্দিকে ছেড়ে দিতে ১৭ মাস ধরে অনুরোধ জানিয়ে আসছি আমরা, বলেছেন তিনি।
আটক মার্কিনিদের মধ্যে একজনকে ২০১৫ সালে কারাদণ্ড দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। বাকি দুজন আটক হন বছরখানেক আগে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিমের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের ঘোষণার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার পিয়ংইয়ং সফর করছেন পম্পেও। এর আগে এপ্রিলের শেষদিকেও দেশটিতে গিয়েছিলেন তিনি, যা ছিল ২০০০ সালের পর কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার প্রথম উত্তর কোরিয়া সফর।
এপ্রিলের শুরুতেই সরাসরি বৈঠকের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বিশ্বকে বিস্মিত করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে দায়িত্বরত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এটাই হবে উত্তর কোরিয়ার কোনো শীর্ষ নেতার প্রথম মুখোমুখি আলোচনা।
ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার মধ্যেই ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ায় পম্পেওর সফরের খবর নিশ্চিত করেছেন।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা আমাদের, বলেছেন তিনি।
কিম জং উনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকের তারিখ, সময় ও স্থান ঠিক হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আমরা আমাদের বৈঠক স্থির করেছি। জায়গা ঠিক হয়েছে; সময়-তারিখও ঠিক হয়েছে। এগুলো কাজ করে কিনা দেখব আমরা। হয়তো এটি করবে না। যদিও এটি উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সারাবিশ্বের জন্য অসাধারণ কিছু বয়ে আনতে পারে, বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প-কিম বৈঠক নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার চীন সফরের খবর জানা গেছে।
ছয় সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফা এ সফরে কিম চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দালিয়ান শহরে বৈঠক করেছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় উন্মুক্ত স্থানে হওয়া এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট শিয়ের সঙ্গে কিমের হাস্যরত এবং দুই নেতা সমুদ্রতীরের একটি রাস্তা ধরে হাঁটছেন এমন ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
দুই নেতা ‘তাদের হৃদয় খুলে দিয়ে উষ্ণ আলাপচারিতা করেছেন’ বলে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ-র প্রতিবেদেনে বলা হয়েছে।
সিনহুয়া জানিয়েছে, সফরে কিমকে প্রেসিডেন্ট শি ‘অর্থনৈতিক উন্নতির লক্ষে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনে’ চীনের সমর্থন আছে বলে জানিয়েছেন।
কিম শি-কে জানান, উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখা উত্তর কোরিয়ার ‘ধ্রুব ও পরিষ্কার অবস্থান’ এবং উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংলাপ পারস্পরিক বিশ্বাসের উপর দাঁড়াবে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক নতুন একটি উচ্চতায় পৌঁছানোয় কিম ‘অত্যন্ত খুশি’ হয়েছেন এবং কোরীয় উপদ্বীপের পরিস্থিতি পরিবর্তনে উত্তর কোরিয়া চীনকে আরও সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করবে।
এদিকে তিন বছরের মধ্যে প্রথম চীন-জাপান-দক্ষিণ কোরীয় শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে টোকিও পৌঁছেছেন করছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং। এবারের সফরে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়া পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগ করলে এবং আটক জাপানি নাগরিকদের ছেড়ে দিলে তিনি পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত আছেন।