জাতীয় পুরস্কার ঘিরে বিতর্ক, সব সম্মান দিলেন না রাষ্ট্রপতি

দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত হয়েছিল ৬৫তম ‘ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’। অনুষ্ঠানের দিন সকালেই জানা যায়, রাষ্ট্রপতি ঘণ্টাখানেকের বেশি উপস্থিত থাকবেন না অনুষ্ঠানে। বিতর্কের আঁচ ৬৫তম জাতীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানকে ঘিরে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের হাত থেকে পুরস্কার পেলেন মাত্র ১১জন। বাকি প্রাপকদের হাতে পুরস্কার তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। ঘটনার প্রতিবাদে অনুষ্ঠান বয়কট করার ডাক দেন ৬০জনেরও বেশি পুরস্কার প্রাপক।

গতকাল, বৃহস্পতিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত হয়েছিল ৬৫তম ‘ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস’। অনুষ্ঠানের দিন সকালেই জানা যায়, রাষ্ট্রপতি ঘণ্টাখানেকের বেশি উপস্থিত থাকবেন না অনুষ্ঠানে। ফলে সকলের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া সম্ভব নয় তার পক্ষে। এদিকে আমন্ত্রণপত্রে স্পষ্ট লেখা ছিল, রাষ্ট্রপতিই পুরস্কার প্রদান করবেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রাপকদের একাংশ ক্ষুব্ধ এ নিয়ে।

গত বছর নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সকলের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাহলে এ বছর নিয়মের ব্যতিক্রম কেন? জানা গিয়েছে, রাষ্ট্রপতি যে পুরো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন না, তা নাকি আগে থেকেই জানত কেন্দ্রীয় মন্ত্রক। ঘটনায় পুরস্কার প্রাপকদের অনেকেই অপমানিত হয়ে চিঠি লিখে প্রতিবাদ জানান এবং অনুষ্ঠান বয়কট করার ডাক দেন। যদিও শেষমেশ বেশিরভাগ প্রাপক পুরস্কার গ্রহণ করেন স্মৃতি ইরানির হাত থেকেই।

রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সেরা অভিনেত্রীর মরণোত্তর সম্মান শ্রীদেবীর হয়ে গ্রহণ করেন বনি কপূর, জাহ্নবী এবং খুশি। বিনোদ খন্নার হয়ে দাদাসাহেব ফালকে গ্রহণ করেন অক্ষয় খন্না এবং কবিতা খন্না। এ বছরের সেরা অভিনেতার পুরস্কার রাষ্ট্রপতির হাত থেকেই নিলেন ঋদ্ধি সেন।

তার কথায়, বিতর্কটা অনভিপ্রেত। তবে পুরস্কার কারা পাবেন সেটা আদতে ঠিক করেন জুরি সদস্যরা। শেখর কপূর নিজে আমাকে অভিবাদন জানিয়েছেন। আমার কাছে সেটা পুরস্কারের চেয়ে কম কিছু নয়। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবি ‘নগরকীর্তন’এর জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন ঋদ্ধি।

পরিচালক নিজে যদিও জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টা বেশ অপমানজনক মনে হয়েছে তার। ‘ময়ূরাক্ষী’র নির্মাতারাও পুরস্কার গ্রহণ করেছেন স্মৃতি ইরানির হাত থেকেই। বাংলা ব্রিগেড হাজির থাকলেও এই প্রথম জাতীয় পুরস্কারের মঞ্চকে ঘিরে দানা বাঁধল বিতর্ক।