
গাইবান্দা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের মরাদাতেয়া গ্রামের উত্তর পাড়ার সাজু বিএস এর ছেলে লম্পট সুমন (২২) একই গ্রামে ৯ শ্রেনী পড়ুয়া ছাত্রীকে বিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে জৈনৈক বাবলু ‘র বাড়ীতে নিয়ে ধর্ষন করে ধর্ষনের স্বীকার ছাত্রীটি ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে ধর্ষক সুমন (২২) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরপর স্থানীয়রা হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মেয়েটিকে আনলে মেয়েটির পরিবার ধর্ষক সুমনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এরপর ভুক্তভোগী ছাত্রীটিকে নিয়ে ধর্ষক সুমন কে গ্রেফতারের অভিযান চালায় এসময় ধর্ষক কে গ্রেফতার করতে না পেরে ধর্ষনের স্বীকার ছাত্রীটিকে ধর্ষকের পিতা সাজু বিএস এর বাড়ীতে রেখে চলে যায় পুলিশ । পরে আজ সোমবার ভোরে কোন আইনগত সহায়তায় না পেয়ে ছাত্রীটির পরিবার নিরুপায় হয়ে ছাত্রীটির নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদের প্রচার হলে আজ পলাশবাড়ী থানায় ধর্ষক সুমনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার পরের দিন বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের সেসময় ছাত্রীর চাচা জানান, বিষয়টি নিয়ে আপোষ মিমাংসার প্রস্তুতি চলছে ভুক্তভোগীর মা বাবা ঢাকায় থাকে তারা আসলে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ধর্ষনের স্বীকার ভুক্তভোগী ছাত্রীটি জানান, আমরা গরিব ধর্ষক ও তার পরিবার সম্পদশালী তাদের সাথে আমার পরিবার পারবে না। মান সম্মান যা যাওয়ার গিয়েছে আর আল্লাহ এ লম্পটের বিচার করবে। আমি লম্পটের উপযুক্ত শাস্তি চাই কিন্তু কার কাছে সে বিচার চাইবো কেউ তো বিচার করবে না শুধু নিজেরা সুবিধা নিবে। পুলিশ ফাঁড়ি থানা হতে আমাকে লম্পট সুমনের বাড়ী রেখে যায় সেখানে তার পরিবার আমাকে থাকতে না দিলে আমার পরিবার আমাকে বাড়ীতে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগীর দাদী জানান,পুলিশ যেখানে সব জেনে শুনে কোন আইনগত পদক্ষেপ নিলো সেখানে আপনারা কিভাবে আমাদের বিচার নিয়ে দিবেন। আমরা গরিব মানুষ আমরা কিভাবে সাজু বিএস এর সাথে পারবো তার অনেক টাকা সে সবাইকে কিনে নেবে। এবিষয়ে কথা বলতে ধর্ষকের পিতা সাজু বিএস এর বাড়ীতে গেলে তাকে ও অভিযুক্ত সুমন কে পাওয়া যায়নি। সুমনের মা জানান, সুমন বাড়ীতে নেই কোথায় আছে জানা নেই তার। সুমনের বোন বলেন মেয়ে দুঃচরিত্রা সে আমাদের ফাঁসাতে মিথ্যাচার করছে।
অত্র ইউপি চেয়ারম্যান রুশু চৌধুরীর জানান, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ভাবে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে মিমাংসার কথা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ আসেনি। এবিষয়ে হরিনাবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আই সি কামাল হোসেন জানান, এরকম একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেয়েটিকে নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার অভিযান করা হয়। এসময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে না পেয়ে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে থানায় অভিযোগ দেওয়া পরামর্শ প্রদান করা হয়। স্থানীরা জানান,ধর্ষক দুঃসচরিত্র ও বখাটে বটে সে এর আগেও এরকম একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে এ ঘটনাটির তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। যাতে করে দরিদ্র পরিবার টি নায্য বিচার পায়। এ জন্য সকলকে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন তারা।
গণমাধ্যমে এঘটনাটি প্রকাশ পাওয়া পর উপজেলা জুড়ে আলোচনার কেন্দ্র বৃন্দুতে পরিণত হওয়ায় আজ ভুক্তভোগী পরিবারটি ধর্ষক সুমনের বিরুদ্ধে পলাশবাড়ী থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের। ভুক্তভোগী মেয়েটি বর্তমানে পলাশবাড়ী থানা হেফাজতে আছে। আগামীকাল ২ মে বুধবার সকালে ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গাইবান্ধা প্রেরন করা হবে। ধর্ষকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়।