
নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে প্রায় ৫৪,০০০ জন মাধ্যমিক স্টুডেন্ট ইসলাম ধর্মের শিক্ষা পাচ্ছে যদিও আরো দশগুণ স্টুডেন্ট ইসলামি শিক্ষা নিতে আগ্রহী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইসলামের শিক্ষা চরমপন্থী হতে নিরুৎসাহিত করে তাই এটা খুবই জরুরি।
প্রতিটি মুসলিম স্টুডেন্ট যথাযথভাবে ইসলামের শিক্ষা পাচ্ছে না বলেও সমীক্ষায় বলা হয়। খবর ডয়েচেভেলে
জার্মানির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী দুই বছর আগেও ৮০০ টি স্কুলে ৪২,০০০ জন স্টুডেন্ট ইসলামি শিক্ষা নিত বর্তমানে তা বেড়ে ৫৪,০০০ জনে পৌছেছে। আগামীতে এ সংখ্যা আরো বাড়বে।
‘মুসলিম লাইফ ইন জার্মানি’ শিরোনামে ২০০৮ সালের ওই রিপোর্টে বলা হয় প্রায় ৫,৮০,০০০ জন স্টুডেন্টের ইসলামি শিক্ষা প্রয়োজন।
বর্তমানে বিপুল সংখ্যক মুসলিম শরণার্থী জার্মানিতে অবস্থান করছে তাই এ সংখ্যা বর্তমানে আরো অনেক বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে।
নির্দিষ্ট সংখ্যা না জানা গেলেও ওসনাব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রউফ সাইলান বলেন, জার্মানিতে ছয় থেকে আঠারো বছর বয়সী মুসলিম জনসংখ্যার সংখ্যা প্রায় আট লক্ষাধিক।
উল্লেখ্য, জার্মানিতে রাজ্য পর্যায়ে আলাদা আলাদা শিক্ষা ব্যাবস্থা বিদ্যমান। কিছু কিছু রাজ্যে ধর্মীয় শিক্ষা চার্চ থেকেই নিতে হয়। কোথাও কোথাও স্কুল নিজেই ব্যবস্থা করে আবার কোনো কোনো রাজ্যে ইসলামী শিক্ষা নিষিদ্ধ। হামবার্গ ও ব্রীমেন রাজ্যে সকল ধর্ম মিলিয়ে ক্লাস করানো হয়। আবার পূর্ব জার্মানের বার্লিন ব্যতিত সকল রাজ্যে ইসলামী শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে জার্মানিতে ইসলাম ধর্মের শিক্ষকদের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। আবার অনেক স্কুল কমিটি চায় না তাদের স্কুলে ইসলামি শিক্ষা থাকুক। অনেক সময় কিছু কিছু অভিভাবকও চায় না তার সন্তান ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। এটা যে শুধু পদ্ধতিগত সমস্যা তা নয়।
সাংবিধানিকভাবে জার্মানিতে ইসলামি শিক্ষার কোনো ভিত্তি নেই। এখানে কেবল তিনটি পদ্ধতিতে ধর্ম শেখা যায় তা হল- পরিবার, নিজ সম্প্রদায় এবং চার্চ বা মসজিদ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নাস্তিক শিক্ষক বলেন, আমি চায় না আমার স্টুডেন্টরা ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। তারা যদি ইসলামি শিক্ষা চায় তো মসজিদে যাক স্কুলে কেন? যদি তারা ধর্ম শিখতেই চায় আমি বলবো তারা যেন খ্রিস্টান ধর্ম শিখে।
আরেক জার্মান শিক্ষক বার্গরাক স্বীকার করেন যে রাজ্যগুলোর কড়া তত্ত্বাবধানের কারণে আরব ও তুরস্কের তুলনায় জার্মানিতে মুসলিমরা যথাযথ শিক্ষার পরিবেশ পাচ্ছে না।