
বর্ষা ও ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের আগে জরুরি অর্থায়ন নিশ্চিত করা না হলে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংকট তৈরি হবে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)। একই সঙ্গে তারা বলছে, জুলাই মাসের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোকে এ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংস্থাটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জন্য ১৮২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহযোগিতা চেয়েছে। বর্তমানে অর্থায়নের ঘাটতি ১৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সকল সংস্থার সম্মিলিত অংশগ্রহণে সাহায্য প্রদানে সংস্থাগুলো ৯৫১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে বর্তমান সাহায্য এর মাত্র ৯ শতাংশ।
দাতা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে তারা বলছে, ক্যাম্পগুলোতে জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থা এবং ক্যাম্পের লোকদের জন্য খাদ্যের সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। নতুন অর্থায়ন না হলে রোহিঙ্গাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা সেখানে ত্রিপলের নিচে বসবাস করছে। ক্যাম্পগুলো পাহাড়ের ঢালে, উঁচুনিচু বালু মাটিতে হওয়ায় বন্যা ও ভূমিধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ। এরমধ্যে ভূমিধসের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ২৫ হাজার।
আর্থিক সহযোগিতা না পেলে অন্যরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে, রাস্তা না হলে জরুরি সহযোগিতা এবং মেডিকেল সেবা তাদের লাখ লাখ লোকের কাছে পৌঁছানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা এবং মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের ব্যাপারে প্রাথমিক রিপোর্ট পেতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের একটি দল বাংলাদেশ সফর করছে। ঠিক এ সময়ই জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যাপারে এই সতর্কতার কথা জানালো।