
গাজা-ইসরাইল সীমান্তে ফিলিস্তিনিদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে মারণাস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইলি নেতারা।
গত শুক্রবার ফিলিস্তিনিরা ৪২তম ভূমি দিবস পালন করেন। ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর ৩০ মার্চ ইসরাইলের দখলদারিত্বের প্রতিবাদে ‘ভূমি দিবস’ পালন করছে ফিলিস্তিনিরা।
এদিন দিবসটি পালনের উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনিদের জমায়েতে হামলে পড়ে ইসরাইলি বাহিনী। তারা গুলি চালিয়ে ১৭ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হন সাড়ে সাত শতাধিক ফিলিস্তিনি। আহত হয় প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষ।
ভিডিও ফুটেজ দেখা যায়, সীমান্তের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টারত একদল বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায় ইসরাইলি সেনারা। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গুলিতে ৯ বিক্ষোভকারী নিহত হন। এসময় ট্যাংকের শেলের আঘাতে একজন কৃষককেও হত্যা করা হয়।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর ইসরাইলি সেনারা রাবার বুলেটের পাশাপাশি মারণাস্ত্রের ব্যবহার করে।
জাতিসংঘের মহাসচিব এন্টোনিও গুতেরেস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনিসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এঘটনা তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা বলছেন, ইসরাইলি বাহিনীর এই জবাব অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আভিগদর লিবারম্যান এই অভিযোগ অস্বীকার করেন। ‘আর্মি রেডিও’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সৈন্যদের ওপর পাথর নিক্ষেপের কারণে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের সব সৈন্যরা পদক পাওয়ার যোগ্য। এজন্য তদন্ত কমিশনের কোনো প্রয়োজন নেই।’
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ইসরাইলি সেনাদের হাতে নিহতদের মধ্যে অল্প বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরও রয়েছে।
ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাস এই সহিংসতার জন্য ইসরাইলকে দায়ী করে। হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ বলেছেন, তারা এক ইঞ্চি ফিলিস্তিনি জমিও ইসরাইলের কাছে ছাড়বেন না।
গাজা-ইসরাইল সীমান্তে সব সময় ইসরাইলের কড়া সামরিক পাহারা থাকে। সেখানে ইসরাইল তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে।
ফিলিস্তিনিরা প্রতি বছরের ৩০ মার্চকে ‘ভূমি দিবস’ হিসেবে পালন করে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে ফিলিস্তিনিরা যখন তাদের জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিল, তখন ইসরাইলি সৈন্যদের গুলিতে ছ’জন নিহত হয়।
ছ’সপ্তাহ ব্যাপী এই বিক্ষোভ শেষ হবে আগামী ১৫ মে, যেদিনটিকে ফিলিস্তিনিরা ‘নাকবা’ কিংবা বিপর্যয় দিবস হিসেবে পালন করে। ১৯৪৮ সালের ওই দিনে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের বাড়িঘর ফেলে চলে আসতে বাধ্য হয়েছিল ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর।
ফিলিস্তিনিরা বহু দশক ধরে ইসরাইলে তাদের ফেলে আসা বসত বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অধিকার দাবি করছে। কিন্তু ইসরাইল এই অধিকারের স্বীকৃতি দেয়নি।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট