
সকাল থেকেই শাহ জালাল বিমানবন্দর ও ইউএস বাংলার অফিসে ভিড় করছেন হতাহতদের স্বজনরা। সময় যতই বাড়ছে বারিধারায় অবস্থিত ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের অফিসে নেপালগামী বিমানে থাকা যাত্রীদের স্বজনদের ভিড়ও ততই বাড়ছে। তাদের বুকফাঁটা আহাজারিতে সেখানকার পরিবেশ যেন ভারি হয়ে উঠছে।
এরই মধ্যে হতাহতদের ৪৭জন স্বজন নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইট সকাল ১০টার দিকে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়ে গেছে।
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার উম্মে সালমা, সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তিনি। বর্তমানে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনদিনের অফিসিয়াল সফরে সোমবার ইউএস বাংলার বিমানে কাঠমান্ডু রওনা দেন তিনি।
এরপরই আসে বিমান দুর্ঘটনার খবর। সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বারিধারারা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের অফিসে ছুটে আসেন তার বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ। বোনের জন্য আহাজারি করতে থাকনে তিনি। বোনকে জীবিত ফিরে পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় আছেন তিনি। শোক যেন তাকে নির্বাক করেছে।
তার সঙ্গে একই বিমানে ছিলেন সিনিয়র সহকারী প্রধান নাজিয়া আফরিন চৌধুরী।
নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার বিমানে পরিকল্পনা বিভাগের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের ( জিইডি) দুই নারী কর্মকর্তার থাকার কথাটি নিশ্চিত করেছেন জিইডির সদস্য ড. সামসুল আলম। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। নেপাল দূতাবাসে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। কিন্তু দূতাবাস এখন পর্যন্ত কিছুই বলতে পারছে না।
সরকারি এক সেমিনারে অংশ নিতে ওই দুই কর্মকর্তা নেপালে যান বলেও জানান তিনি।
এর আগে সোমবার নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (টিআইএ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যাত্রীবাহী একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়। ইউএস-বাংলা সূত্রে জানা গেছে বিমানটিতে হতাহতের বিষয়ে তারা এখনও নিশ্চিত তথ্য পায়নি। তবে ফ্লাইটটিতে ৬৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক, দুই শিশু এবং পাইলট ও ক্রু চারজন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৩ জন বাংলাদেশি, ১ জন মালদ্বীপের নাগরিক, ১ জন চাইনিজ বাকিরা নেপালের যাত্রী।’
সোমবার নেপালের স্থানীয় সময় দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
নেপালের স্থানীয় দৈনিক দ্য হিমালয় টাইমস বলছে, বিমান বিধ্বস্তের এ ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানির শঙ্কা প্রকাশ করেছে টিআইএ।
নেপালে দুর্ঘটনা কবলিত বিমানে ছিলেন স্বামীসহ রুয়েট শিক্ষক
নেপালে মর্মান্তিক দূর্ঘটনার কবলে পড়া বিমানটির যাত্রী ছিলেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসি ও তার স্বামী প্রকৌশলী রকিবুল হাসান। সহকারী অধ্যাপক ইমরানা কবির হাসি নেপালের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে রুয়েট সূত্রে জানানো হয়েছে।
ইমরানা কবির হাসি রাজশাহী মহানগরীর তালাইমারী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন। তার স্বামী রকিবুল ঢাকার আসাদ গেটে অবস্থিত একটি সফটওয়ার ফার্মে চাকুরী করেন। ভ্রমন প্রিয় হাসি ১৫ দিনের ছুটিতে স্বামীর সাথে নেপাল ভ্রমনে গিয়েছিলেন বলে জানান তার প্রতিবেশী ও সহকর্মীরা।
এদিকে প্রকৌশলী রকিবুলের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামে। আর হাসির বাড়ি টাঙ্গাইলে। ২০১২ সালে রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগ থেকে পাশ করে ২০১৩ তে সেখানেই শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ইমরানা কবির হাসি। আর তার স্বামী একই বিভাগের জিরো’ সিক্স সিরিজের শিক্ষার্থী ছিলেন।