
জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ আফ্রিকা-এশিয়ার দুই ব্যক্তি ও সাতটি সংগঠনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
দেশটির রাজস্ব বিভাগের ফরেন এসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, তারা নাইজেরিয়ার আবু মুসাব আল বার্নাবি, সোমালিয়ার মাহাদ মোয়ালিম ও বাংলাদেশ, মিসর, ফিলিপাইনস, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া ও তিউনিশিয়ার সাতটি গ্রুপকে সন্ত্রাসবাদের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করেছে। খবর রয়টার্সের
আইএসআইএস-বাংলাদেশ, আইএসআইএস-মিসর, আইএসআইএস-ফিলিপাইনস, আইএসআইএস-সোমালিয়া, আইএসআইএস-পশ্চিম আফ্রিকা, জান্দ আল খলিফা তিউনিশিয়া ও ফিলিপাইনসভিত্তিক মাউতিগোষ্ঠীকে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা এক বিবৃতিতে বলেছে, নতুন এসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ছাড়াও ২০১১ সাল থেকে আইএস নেতা এবং তাদের হয়ে কর্মকাণ্ড পরিচালনাকারী ৪০ ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। এসব ব্যক্তি দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ঢুকতে পারবে না।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইএসকে পরাজিত করতে গঠিত ৭৫ সদস্যের গ্লোবাল কোয়ালিশনের সহযোগিতায় ব্যাপকভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বড় ধরনের সফলতা পাওয়া গেছে।
এতে আইএসের নিরাপদ স্বর্গ ধ্বংস, বিদেশি যোদ্ধাদের দলে ভেড়ানোর সুযোগ বন্ধ, অর্থের উৎস বন্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের হয়ে প্রচার-প্রচারণা সীমিত করে দেয়ার পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় মুক্ত অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে সেখানে শরণার্থীদের ফিরে যেতে সহাযোগিতা করতে এমন পদক্ষেপ সহায়ক হবে।
গৃহযুদ্ধকবলিত সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে ২০১৪ সালে খেলাফত ঘোষণা করে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট। ভিন্নমতাবলম্বী ও পশ্চিমা নাগরিকদের শিরশ্ছেদসহ নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে বিশ্বজুড়ে শিহরণ জাগায় তারা।
ফ্লোরিডা হত্যাকাণ্ডে এবার কাঠগড়ায় পুলিশ অফিসার
ফ্লোরিডা কাণ্ডের তদন্তে এ বার উঠে এল নতুন তথ্য। গত ১৪ তারিখ ফ্লোরিডার পার্কল্যান্ডের মারজরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুলে বন্দুক হাতে তাণ্ডব চালিয়েছিল স্কুলেরই প্রাক্তন ছাত্র নিকোলাস ক্রুজ।
পড়ুয়া-শিক্ষক মিলে নিহত হন ১৭ জন। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে ব্রোয়ার্ড কাউন্টির শেরিফ স্কট ইজরায়েল জানিয়েছেন, ওই স্কুলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসার সেদিন ওই বন্দুকবাজকে আটকাতে স্কুলের ভিতরেই ঢোকেননি।
স্কট পিটারসন নামে ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন শেরিফ। তাকে সাসপেন্ডও করা হয়েছে।
শেরিফের বক্তব্য, ‘সে দিন টানা ছ’মিনিট ধরে গুলি চালিয়েছিল বন্দুকবাজ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অফিসার পিটারসন কেন তখন স্কুলের মধ্যে ঢুকে বন্দুকবাজকে আটকানোর বা মেরে ফেলার চেষ্টা করেননি তা তার কাছ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছে। আটকে দেওয়া হয়েছে তার বেতনও।’
সাসপেন্ড করার পরে অবশ্য পদত্যাগ করেন ওই অফিসার। সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেননি পিটারসন। তবে সে দিন পেট ব্যথা হচ্ছিল বলে পিটারসন তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। যা শুনে শেরিফের বক্তব্য, ‘ওরা নিজেদের সন্তানদের হারিয়েছেন। এই শোকের কোনও ভাষা নেই।’
এ দিকে, গত দু’দিন ধরে অস্ত্র আইনে রাশ টানা নিয়ে একের পর এক বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ফের টুইট করে তিনি বন্দুক কেনার বয়ঃসীমা ১৮ থেকে বাড়িয়ে ২১ করার পক্ষে সওয়াল করেছেন।
তার বক্তব্য, ‘আমি জানি এনআরএ (ন্যাশনাল রাইফ্ল অ্যাসোসিয়েশন) এবং কংগ্রেস আমায় নিশ্চয়ই সমর্থন করবে।’
সেই সঙ্গে অ্যাসল্ট রাইফেল যাতে দেশের সকলে কিনতে না পারে, তার উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।