
রোহিঙ্গাসহ অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনায় বসেছেন বাংলাদেশ ও মায়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। শুক্রবার বিকেল ৩টায় সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।
বাংলাদেশে সফররত মায়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল চিয়াও সোয়ে সচিবালয়ে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। এসময় পুলিশের একটি চৌকশ দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে মন্ত্রী পর্যায়ের এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ১৮ জন আর মায়ানমার প্রতিনিধি দলে ১৫ সদস্য অংশ গ্রহণ করছে। বৈঠকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ ভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তা ছাড়া মাদক, সন্ত্রাস, সীমান্তসহ দুই দেশের অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হতে পারে। তিন দিনের সফর শেষে মায়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাল ফিরে যাবেন।
গত বছর ২৫ আগস্ট মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এর পর থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অভিযোগ, রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হয়েছে। সম্প্রতি রাখাইন রাজ্যে গণকবরেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনীর জড়িত সদস্যদের বিচার দাবি করেছে আন্তর্জাতিক মহল।
সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মায়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ। কিন্তু ঢাকায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত বলছেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গা নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে সম্প্রতি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বাংলাদেশ ও মায়ানমার সফর করেন।
এর আগে এর আগে মায়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লে. জেনারেল কিয়াও সোয়ে সরকারি সফরে ঢাকায় এসেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
সেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাভেদ পাটোয়ারী তাকে স্বাগত জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সফররত মায়ানমারের মন্ত্রীর দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে সোয়ে ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
এই ১২ সদস্য আগেই বিভিন্ন সময় ঢাকায় এসেছেন। দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এ বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ইয়াবার মতো মাদক দ্রব্য চোরাচালন বন্ধ ও সীমান্তে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
সূত্র আরও জানায়, মায়ানমারের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী আরাকান সলভেশন আর্মি বা আরসা’র সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে আটক ও হস্তান্তরের বিষয়টি উত্থাপন হতে পারে বৈঠকে।সূত্র-আরটিএনএন