
প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামীন আব্দুল গাইয়ুম দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে যাচ্ছেন এমন গুজব ছড়ানোর পর সেনাদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মালদ্বীপে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা সেনা সদস্যদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির অ্যাভাস.এমভি নামের একটি অনলাইন গণমাধ্যম।
খবরে বলা হয়েছে, রবিবার মালদ্বীপের সেনাবাহিনী বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা সেনাদের রাজধানী মালের হেডকোয়াটার্সে ফেরত আসার নির্দেশ দেয়। এর আগে পার্লামেন্ট ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে সেনা সদস্যদের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় বলে জানায় আলজাজিরা।
অ্যাভাস.এমভি নামের একটি অনলাইন গণমাধ্যমটি বলেছে, সেনা প্রত্যাহারের খবরের সত্যতা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে রোববার দুপুর থেকে কিছু সেনা সদস্যকে রাজধানীতে ফেরত আসতে দেখা গেছে।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাতে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ওই রায়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ নাশীদসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দুই দিন পার হলেও সরকার আদালতের রায় বাস্তবায়ন না করায় ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে চলমান রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়।
নাশীদ ছাড়া আর যাদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয় তারা হলেন, জামহুরি পার্টির নেতা গাসিম ইব্রাহিম, ইসলামপন্থী দল আব্দুল্লাহ পার্টির নেতা শেখ ইমরান আব্দুল্লাহ, সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মোহাম্মাদ নাজিম, সাবেক ভাইস-প্রেসিডেন্ট আহমেদ আদীব আব্দুল গফুর, ক্ষমতাসীন দলের পদচ্যুত নেতা এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মামুন আব্দুল গাইয়ুম সরকারের সংসদ সদস্য ফারিস মামুন। এছাড়া সাবেক প্রসিকিউটর জেনারেল মুহতাজ মুহসিন, ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ নিহান এবং আদীপের শ্যালক হামিদ ইসমাইলকে মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সরকারি দল থেকে পদত্যাগকারী ১২ সংসদ সদস্যকেও তাদের পদে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এই ১২ সংসদ সদস্যকে তাদের পদে বহাল রাখলে সংসদে বিরোধী পক্ষ শক্তিশালী হয়। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ইয়ামিন আব্দুল্লাহ গাইয়ুমকে অভিশংসন করার ক্ষমতা অর্জন করে বিরোধী পক্ষ। এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তাদের কাছে তথ্য আছে যে, সুপ্রিম কোর্ট ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিতে যাচ্ছে।
অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মাদ অনিল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তারা তথ্য পেয়েছেন যে, সুপ্রিম কোর্ট যেকোনো সময় প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবে। এ ধরনের উদ্যোগকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ ও সেনাবাহিনী যেকোনো ধরনের অসাংবিধানিক নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করবে।
এরপর দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আহমেদ শিয়াম বলেন, সেনাবাহিনী সংবিধান ও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। সেনাবাহিনী রাষ্ট্রের আইনি কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেলের নির্দেশ অনুসরণ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শিয়াম বলেন, ‘মালদ্বীপ যখন সংকটের দিকে যাবে তখন সেনাবাহিনী বসে থাকবে না। তাছাড়া সেনাবাহিনী কোনো অসাংবিধানিক নির্দেশও মানবে না।’
অন্যদিকে, নতুন পুলিশ প্রধান আব্দুল্লাহ নওয়াজ এক বিবৃতিতে সেনাপ্রধানের মতোই বক্তব্য দেন। তবে মামলার রায়কে প্রভাবিত করতে বিরোধী পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের কিছু বিচারককে ঘুষ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে- এমন অভিযোগ উঠার পরই বর্তমান পরিস্থিতির দিকে যায় মালদ্বীপ। এমন পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামীন আব্দুল গাইয়ুম দেশে জরুরি অবস্থা জারি করতে যাচ্ছেন এমন গুজব ছড়ানোর পরই সেনাদের ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।