![]()
আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের চলতি ১৯তম অধিবেশনের মধ্যেই সদস্যদের (এমপি) ভোটে এ নির্বাচন হবে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
আইনমন্ত্রী জানান, ‘নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আমি জানতে পেরেছি, তারা ১৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল।
তিনি ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্বগ্রহণ করেন।
সংবিধান অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের পূর্ববর্তী ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে হবে। সে হিসেবে ২৪ জানুয়ারি (বুধবার) থেকে শুরু হচ্ছে নির্বাচনের ক্ষণ গণনা।
জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার এ বিষয়ে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। ’
আইন অনুযায়ী, এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। মো. আবদুল হামিদ প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন।
দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই বেছে নিতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সুশীল বা পেশাজীবী মহল থেকে কাউকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় তিনটি নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের নামও। তবে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন কিনা, তা নির্ভর করছে তার শারীরিক সুস্থতার ওপর। আলোচনায় আরও রয়েছে জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নাম। সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাবেক তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের নামও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দেশ ও দলের প্রতি আনুগত্য রয়েছে, ইমেজসম্পন্ন ও সুপরিচিত এবং রাজনীতিতে ত্যাগ-তিতীক্ষা রয়েছে— এমন ব্যক্তিই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে বলেন, ‘চলতি বছরেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এসময় দেশে অস্থিরতা তৈরির চক্রান্ত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন এবং সব মহলে গ্রহণযোগ্য কোনও রাজনৈতিক নেতাই হবেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। ’
এছাড়া, অতীত অভিজ্ঞতা সুখকর না হওয়ার কারণেই সুশীল সমাজ ও পেশাজীবী মহল থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হবে না বলে জানিয়েছেন সরকারের প্রভাবশালী একজন মন্ত্রী।