
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে চেয়ারে বসিয়ে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদ ও বর্তমান স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হর্ষবর্ধন শিংলাদেরকে দাঁড় করিয়ে রেখে তোলা ছবিগুলো ফেসবুকে নিজেদের পেইজে পোস্ট করিয়েছিলো ভারতীয় দূতাবাস।
কিন্তু ছবিগুলো ফেসবুকে নিজেদের পেইজে পোস্ট পর থেকে এসব ছবি নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে সেগুলো তাদের পেইজ থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ঢুকে হাইকমিশনের ফেসবুক পেইজে ছবিগুলো দেখা যায়নি। তবে সেখানে এক পাঠকের শেয়ার করা ছবি ও তাদের সমালোচনামূলক কমেন্ট পাওয়া গেছে।
এদিকে ভারতের হা্ই কমিশনারের সাথে বাংলাদেশের স্পীকার, সিনিয়র কয়েকজন মন্ত্রী এবং সাবেক একজন রাষ্ট্রপতি দাড়িঁয়ে থাকা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল তার ফেসবুক একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। পাঠকদের জন্য আরটিএনএন-এ তার লেখা হুবহু তুলে ধরা হলো।
তিনি লিখেছেন- ভারতের হা্ই কমিশনারের সাথে এককাতারে দাঁড়িয়ে আমাদের দেশের স্পীকার, সিনিয়র কয়েকজন মন্ত্রী এবং সাবেক একজন রাষ্ট্রপতি। সামনে ভারিক্কি ভঙ্গিতে চেয়ারে বসে আছেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি। এ ছবি দেখে অনেকে অনেক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আমারো কিছু প্রতিক্রিয়া হলো যা না লিখে পারলাম না।
ক. ছবিটি দেখে আমি দু:খ পেলেও অবাক হইনি। প্রণববাবু ভারতের রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খবরদারিত্ব করতেন। হয়তো এখনো করেন। ছবির শরীরি ভাষা তাই বলে।
খ. দু:খটা আমাদের নেতাদের নিয়ে। যুদ্ধ করে স্বাধীন হয়েছে আমার দেশ। এ দেশের বহু নেতার মধ্যে তারপরও আত্নমর্যাদাবোধের এতো অভাব কেন?
গ. অন্যদের প্রসঙ্গ না হয় বাদ দিলাম। এরশাদ সাহেব তো প্রণব বাবুর চেয়ে বয়েসে বড়, প্রণব যখন সাধারন একজন মন্ত্রী, এরশাদ ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি। বসে থাকা প্রণবের পেছনে অন্যদের সাথে তিনি কিভাবে দাড়িয়ে গেলেন?
আমরা লজ্জা পাচ্ছি। তারা কি পাচ্ছেন একটুও?
তার এই স্ট্যাটাসের পর অনেকই এতে তাদের মনের কথা ব্যক্ত করেছেন। মোহাম্মাদ রাহুল আহমেদ লিখেছেন- চেতনা শব্দের মানে আমি নিজেও আসলে অনেকদিন বুঝতাম না। কিন্তু যেদিন পিয়াস করিম স্যারকে বলতে শুনেছি- ‘ভারতের অন্ধ দালালি করবার শুদ্ধ শব্দ হচ্ছে চেতনা’।
নীল মাহমুদ লেখেন- জামাই বাবুর পিছনে এক ঝাক শালা-শালি। অন্যভাবে বলা যায়, সামনে বসে আছে, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, আর তার পিছনে একাদারে জগৎ শেঠ, মীর জাফর এবং ঘসেটি বেগমরা।
মো. মোসারফ হোসাইন হাওলাদার লেখেন- ভোটারবিহীন ক্ষমতা দখলকারী তোফা, মাল, শিরিন, পরকিয়া রাষ্ট্রপতি এরশাদ, সবাই দাদার পূজা দিচ্ছে আবার ৫ই জানুয়ারি মত একটা নির্বাচনে ব্যবস্থা যেন করে সেই সম্মান অর্থে একটি রইল বেয়াদব।
আলম মোস্তফা লিখেছেন- স্বাধীন দেশ ও জাতি হিসেবে ব্যাপারটা আমাদের জন্য অত্যন্ত অপমান, অসম্মান আর লজ্জাজনক বটে! কিন্তু ব্যক্তি যোগ্যতার দিক দিয়ে তাদের জন্য যথাযথ। কেননা, আমার মতে- গণতান্ত্রিক আর অগণতান্ত্রিক দেশ ও জাতি,এবং বৈধ আর অবৈধ ব্যক্তি চেনার জন্য এর চেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ আর হতে পারে না। সম্ভবত এখানেই যার যার প্রাপ্যটা সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।