
পাকিস্তানকে অর্থ সহায়তা বন্ধের হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের টুইটের জবাবে মুখ খুললেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। তিনি বলেন, নাইন-ইলেভেনের পরে যদি পাকিস্তানে বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকত, তবে কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি হতো না।
সৌদি আরব সফর শেষে ইসলামাবাদে ফিরে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নওয়াজ এসব কথা বলেন।
দ্য ডনের এক খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘তারা’ যদি অপপ্রচার বন্ধ না করে, তবে গত চার বছরে ইসলামাবাদে যা ঘটেছে, সব ফাঁস করে দেবেন। সেই ‘তারা’ কারা, তা স্পষ্ট করেননি তিনি।
নওয়াজ দাবি করেন, ২০০১ সালে যদি পাকিস্তানে স্বৈরশাসকের বদলে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকত, তবে পাকিস্তান কখনো তাদের সক্ষমতা ও আত্মসম্মান বিসর্জন দিত না।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব সফরে গিয়ে সেখানকার যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নওয়াজ শরিফ।
এর আগে গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট করে বলেন, ওয়াশিংটনকে মিথ্যা ও ছলনা ছাড়া কিছুই দেয়নি পাকিস্তান। পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের ‘বোকা’ ভাবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। গত ১৫ বছরে বোকামি করে ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে ৩ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার সহযোগিতা করেছে। বিনিময়ে আফগানিস্তানে খুঁজে ফেরা সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ স্বর্গ বানিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, দেশটি প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রচুর সহযোগিতা নেয়। তাই ইসলামাবাদ ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করতে বাধ্য।
ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের জবাবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফের সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পাকিস্তান শিগগিরই প্রকৃত তথ্য দিয়ে আসল পরিস্থিতি বিশ্বকে বুঝিয়ে দেবে।
ট্রাম্পের টুইটের কয়েক ঘণ্টা পরই হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসী ও জঙ্গি নির্মূল না করা পর্যন্ত স্থগিত করা হলো পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত সাড়ে ২৫ কোটি ডলার। গত বছর দেশটির জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া ১১০ কোটি ডলারের তহবিলের অংশ এটি।
এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান জানিয়েছে, মার্কিন সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানে আর কোন সহায়তা করবে না তারা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ দমন অভিযান যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া আমাদের একধরনের সেবা। যার পরিবর্তে আমরা টাকা উসুল করেছি। কেননা তারা পাকিস্তানের ভূখণ্ড, আকাশ ও রেলপথ ব্যবহার করছে। এখন ওয়াশিংটন যদি চায় তাহলে পাই-পাই হিসাব দিতে আমরা প্রস্তুত। একইসাথে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, কোন দেশের জন্যেই আমরা আর সহযোগিতামূলক কাজ করবো না।’
ডিজিআইএসপিআর কর্মকর্তা মেজর জেনারেল আসিফ গফুর বলেন, ‘আমরা যথেষ্ট ছাড় দিয়েছি, আর নয়। এবার পাকিস্তান সেনাবাহিনী যা করবে শুধু দেশের জন্যেই করবে। যে সামরিক সহায়তার কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্র, তা কেবল আমাদের জন্য নয় বরং আফগানিস্তান ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী জোটের জন্য বরাদ্দ ছিলো।’
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছে প্রতিবেশী ভারত ও আফগানিস্তান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র জিতেন্ত্র সিং বলেন, ‘মোদি প্রশাসনের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থানের সাথে এতোদিনে একমত হলো মার্কিন সরকার। আমরা বরাবর বলে আসছি, সীমান্তে জঙ্গি অনুপ্রবেশের জন্য দায়ী প্রতিবেশী রাষ্ট্র। এবার ট্রাম্পই বললেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের স্বর্গরাজ্য।’