
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন সম্পর্কে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেছেন, জনগণের আন্দোলন করার অধিকার রয়েছে কিন্তু কোনো ধরনের সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।
গত সপ্তাহে দেশটিতে শুরু হওয়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ আন্দোলন ধীরে ধীরে রূপ নেয় সরকারবিরোধী আন্দোলনে। তারপর থেকে রবিবার প্রথমবারের মতো এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন রুহানি। ২০০৯ সালের পর আর এতবড় আন্দোলন দেখা যায়নি।
তেহরান থেকে প্রচারিত এক টেলিভিশন ভাষণে রুহানি বলেন, ‘এটা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন যে আমরা স্বাধীনতার পক্ষপাতী। দেশের সংবিধান এবং নাগরিক অধিকার অনুযায়ী, জনগণ তাদের সমালোচনা এবং প্রতিবাদের অধিকার রাখে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে, সমালোচনা এবং আন্দোলনের পদ্ধতি সম্পর্কে আমাদের খেয়াল রাখা উচিত। এটা এমনভাবে হওয়া উচিত যা জনগণ এবং রাষ্ট্রকে উন্নতির দিকে ধাবিত করে। আন্দোলনকারীদের উচিত নয় জনগণকে তাদের জীবন এবং নিরাপত্তা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন করে তোলা।’
বন্ধ করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
বৃহস্পতিবার থেকে ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে বিক্ষোভ করে আসছে বিপুল সংখ্যক জনগণ। রাস্তায় জড়ো হয়ে তাদেরকে দেখা গেছে ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে। অভিযোগ, ধর্মগুরুদের কারণেই দেশে অর্থনৈতিক কড়াকড়ি সেইসঙ্গে দুর্নীতির দায়েও তাদেরকে অভিযুক্ত করে জনগণ।
তারপর থেকে সময়ের সাথে সাথে জোরদার হয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। রাজধানী তেহরান সহ বেশ কয়েকটি ছোট-বড় শহরে সরকার ও ধর্মগুরুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ। শনিবার তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় পুলিশের।
রবিবার ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর জানায়, শনিবার দরুদ শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত দুই আন্দোলনকারী নিহত হয়েছে।
ওইদিন আন্দোলনের আগাম খবরের প্রচার রোধে জনপ্রিয় অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ সহ বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ করে দেয় ইরান।
সূত্র: আল জাজিরা