
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর আবারো জঙ্গিবিমান ও ট্যাংক দিয়ে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস শহর নিয়ে যখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে তখন ইসরাইল বার বার গাজার ওপর এ ধরনের হামলা করছে।
ইরানের প্রেস টিভি জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে ইসরাইলি বিমানগুলো গাজা উপত্যকার পূর্বে তুফাহ অঞ্চলে ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের কয়েকটি অবস্থানে আঘাত হানে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ কিদরা জানান, ইহুদিবাদীদের হামলায় কেউ হতাহত হয় নি।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ফিলিস্তিনের যোদ্ধারা অধিকৃত ভূখণ্ড লক্ষ্য করে তিনটি রকেট ছুঁড়েছে যার মধ্যে দুটি রকেট ইসরাইলি আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে আর তৃতীয় রকেটটি ইসরাইলের একটি ভবনে আঘাত হেনেছে। এতে ভবনটি সম্পুর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয় বলে দাবি করেছে ইসরাইল। পুলিশ জানিয়েছে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটে নি।
এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহরে শুক্রবারের বিক্ষোভ দিবসে ইসরাইলি পুলিশ ও সেনাদের হামলায় অন্তত ২৫০ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ইসরাইলি সেনারা তাজাগুলির পাশাপাশি টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ে ও লাঠিচার্জ করে।
ইসরাইলি জঙ্গি বিমান রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাতে গাজা উপত্যকায় হামাসের ছয় লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে গাজা উপত্যকায় থেকে দুটি রকেট ছোড়া হয়। এতে সেখানকার একটি ঘর সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) মুখপাত্র বলেন, হামাসের সামরিক স্থাপনায় ইসরাইলি এয়ার ফোর্সের প্লেনগুলো আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হামাস গাজা স্ট্রিপের পরিস্থিতির জন্য বিশেষভাবে দায়ী। ইসরাইলি সম্প্রদায়ের ওপর রকেট হামলাকে আইডিএফ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে এবং ইসরাইল রাষ্ট্রের নাগরিকদের কোনো ক্ষতি করার চেষ্টাকে আমরা মেনে নেবে না।’
গাজা স্ট্রিপ থেকে রবিবার উৎক্ষেপণ করা দুটি রকেট নেটিভ হফ অ্যাশেলোন আঞ্চলিক পরিষদ এলাকার নেটিভ হাসারার কমিউনিটিতে সশব্দে বিস্ফোরিত হয়। এর একটির আঘাতে একটি ঘরের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয় রকেট একটি উন্মুক্ত অঞ্চলে বিস্ফোরিত হওয়ায় সেখানে কোনো ক্ষয় ক্ষতি হয়নি।
গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে ইসরাইলি বিমান থেকে গাজায় হামাসের লক্ষ্যবস্তুতে ৪০টিরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে।
গত ৭ ডিসেম্বর থেকে হামাসের পর্যবেক্ষণ ফাঁড়ি, সামরিক স্থাপনা, অস্ত্রভাণ্ডার এবং অস্ত্র-কারখানাগুলোকে টার্গেট করে ইসরাইলি জঙ্গি বিমান, হেলিকপ্টার এবং ট্যাংকসমূহ থেকে হামলা চালানো হচ্ছে।
জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকে গাজা স্ট্রিপের সঙ্গে ইসরাইল সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর থেকে পশ্চিম তীর, জেরুজালেম ও গাজা জুড়ে ব্যাপক দাঙ্গা শুরু হয়।
ইসরাইলের ভূখণ্ডে সব ধরনের রকেট এবং মর্টার হামলার জন্য ইসরাইল হামাসকে দায়ী করে থাকে। ২০০৮ সাল থেকে হামাস ইসরাইলের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধে লড়াই করেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় ডজন খানিক ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।
ইসরাইল ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জেরুজালেমকে দখল করে নেয়। তারা এটিকে তার অবিভক্ত রাজধানী হিসেবে গণ্য করে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিরা এটিকে তাদের ভবিষ্যত রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে দাবি করে আসছে।
গত ৬ ডিসেম্বর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তেল আবিব থেকে তাদের দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেওয়া হয় স্টেট ডিপার্টমেন্টকে। মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে বিক্ষোভ। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য পেড়িয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়েছে উত্তর আমেরিকা পর্যন্ত।