
সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে হলেও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুগত থাকতে নবীণ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীর প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির বিএমএ’র ৭৫তম দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের সমাপনীতে রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
এর আগে কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা থেকে বিশেষ হেলিকপ্টারযোগে বুধবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে বিএমএতে এসে পৌঁছান তিনি।
অন্যায়ের কাছে মাথানত করব না: প্রধানমন্ত্রী
‘আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বিজয়ী জাতি, অন্যায়ের কাছে মাথানত অথবা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিছপা হব না’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে বিএনএ ফ্লোটিলায় রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ মিডশিপম্যান- ২০১৫ পরিদর্শন শেষে শুভেচ্ছা বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এবার ২১ জন নারী কর্মকর্তা কমিশন পেতে যাচ্ছে।
এসময় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণে জাতির অস্তিত্বের ইতিহাস প্রতিফলিত হয়েছে। আমার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব ভাষণ দিতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রাক্কালে বাবাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন, কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে নয়, তার বিবেক যা বলে- সেই কথাগুলোই ভাষণে বলে আসতে। আমার মা বুঝতেন, জাতির পিতাই বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ-বঞ্চনার কথা সবচেয়ে ভালো জানেন। বাঙালি জাতির প্রতি তার মতো গভীর আন্তরিকতা আর কারো নেই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শোষণ-শাসনে জর্জরিত জাতির বেদনার উপাখ্যান। ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি জাতির পিতার আহ্বানে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের অবিনশ্বর ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসের আলোকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী এবং দৃঢ়চেতা করবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিডশিপম্যানদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘১৯৬৬’র ৬-দফায় বঙ্গবন্ধুই প্রথম পূর্ববঙ্গে নৌবাহিনীর সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিলেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তোমরা এ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বে আত্মনিয়োগ করবে। একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে সর্বদা ঊর্ধ্বতনদের প্রতি আনুগত্য ও অধঃস্তনদের সহমর্মিতা প্রদর্শন করবে। চেইন অব কমান্ড মেনে চলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বিশ্ব দরবারে আরো গৌরবোজ্জ্বল আসনে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।’
এর আগে রবিবার বাংলাদেশ বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট বিজি-০৪১১ ফ্লাইটে সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি ঢাকা থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর সকাল ১০টার দিকে পতেঙ্গা নেভাল একাডেমিতে এই কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগদান করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর কর্মসূচি শেষে সদ্যপ্রয়ত চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সবেক মেয়র মহিউদ্দিনের বাসায় যাবেন এবং বিকেলে প্রধানমন্ত্রী মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি চট্টগ্রামের প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ডিসি-উত্তর) মো. আব্দুল ওয়ারিশ খান।