
ইয়েমেন যুদ্ধে এ পর্যন্ত সৌদি জোটের ৩৭টি এয়ারক্র্যাফট এবং ১,২০০ ট্যাংক ও সাঁজোয়াযান ধ্বংস হয়েছে। ইয়েমেনের জনপ্রিয় হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধা ও তাদের সমর্থক সেনাদের হাতে সৌদি আরব ও কথিত আরব জোটের এসব বিমান এবং ট্যাংক ও সাঁজোয়াযান ধ্বংস হয়।
ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের অনুগত সেনাবাহিনী রবিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ইয়েমেনের আল-মাসিরা টেলিভিশন চ্যানেল এ খবর দিয়েছে। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর বর্বর সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আসছে।
ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে- সৌদি আরব ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের অন্তত এক ডজন এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। সেইসঙ্গে পাঁচটি ম্যাডোনেল ডুগলাস এফ-১৫ ঈগল ও জেনারেল ডায়নামিক্স এফ-১৬ ফ্যালকন যুদ্ধবিমান এবং ২০টির বেশি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
এসব এয়ারক্র্যাফটের পাশাপাশি ইয়েমেনের যোদ্ধারা ১০টি যুদ্ধজাহাজ, ফ্রিগেট ও বেশ কয়েকটি গানবোট ধ্বংস করেছে। এছাড়া, সৌদি আরবের জিজান, নাজরান ও আসির প্রদেশে কয়েকশ কমান্ড সেন্টার এবং সীমান্ত ছাউনি ধ্বংস হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি আরবের বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে যার ফলে দেশটিতে বহু আগেই বাজেট ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও। সৌদি আরবের রিজার্ভ ৭৩৭ বিলিয়ন ডলার থেকে নেমে ৪৩৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ‘বোকামিপূর্ণ যুদ্ধ’ বন্ধের লক্ষ্যে সৌদি আরবের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, ইয়েমেনে চলমান হামলার ফলে দেশটির জনগণ চরম দুঃখ-দুর্দশার মুখে পড়েছে এবং সেইসঙ্গে এতে সৌদি আরব ও আমিরাতের সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব রবিবার মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অস্বাভাবিক ক্ষুব্ধ ভাষায় বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এটি একটি বোকামিপূর্ণ ও অর্থহীন যুদ্ধ।’ তিনি বলেন, ইয়েমেনের জন্য রাজনৈতিক সমাধানই কাম্য।
জাতিসংঘের প্রধান বলেন, ‘আমি মনে করি এই যুদ্ধ সৌদি আরব এবং আরব আমিরাতের পাশাপাশি ইয়েমেনি জনগণের স্বার্থ বিরোধী। আমার দৃষ্টিতে এই যুদ্ধ ইয়েমেনি জনগণের জন্য অবর্ণনীয় দুঃখ দুর্দশা এবং কষ্ট বয়ে এনেছে। সবারই নিজেদের স্বার্থে এটি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।’
২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত ইয়েমেনের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলায় হাজার হাজার ইয়েমেনি হতাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির স্কুল, কলেজ এবং হাসপাতালসহ বহু অবকাঠামো ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘ বলেছে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলায় এ পর্যন্ত ১২ হাজার ইয়েমেনি নিহত হয়েছে এবং দেশটির জনগণ চরম মানবিক বিপর্যের মুখে পড়েছে।