
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম মায়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন।
বুধবার সকালে তিনি রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শনে কক্সবাজারে পৌঁছেছেন। এর আগে সকাল পৌনে ১০টার দিকে ব্যক্তিগত বিমানে কক্সবাজারের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি।
সেখান থেকেই তিনি বাংলাদেশ থেকে বিদায় নেবেন। কক্সবাজারে তাকে বিদায় জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম রোহিঙ্গাসহ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
দুই নেতা মায়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ ভূমিতে ফেরত পাঠানোসহ দ্বিপক্ষীয় ও পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার এবং পরস্পরকে সমর্থন করার অঙ্গিকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সফররত তুর্কী প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি এম আবদুল হামিদের সঙ্গে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি এলদেরিমর স্বাক্ষাত করেন। এছাড়া রাতে তার সম্মানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এক নৈশভোজের যোগ দেন তিনি।
হোটেল সোনারগাঁওয়ে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদিরিমের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বৈঠকটি শুরু হয়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপি চলে বলে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুর পাশাপাশি জেরুজালেম ও দুদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানান বিএনপির মহাসচিব।
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ, ইনামুল হক চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী দুই দিনের সরকারি সফরে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন।
সকালে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি এ সময় পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তার সফরের স্মারক হিসেবে একটি চারাগাছ রোপণ করেন।
এছাড়া তিনি ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি এ সময় জাদুঘরের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী শের-ই-বাংলা নগরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিট উদ্বোধন করেন।