
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল,গাইবান্ধা : করতোয়া ও আখিরা নদীর কোলে অবস্থিত পলাশবাড়ী উপজেলার গ্রামাঞ্চলে শীতের দাপট বাড়তে শুরু করেছে। সন্ধ্যার থেকে ভোর পর্যন্ত কুয়াশা ও হিম বাতাসের রাজত্ব সেখানে। দিনে হালকা গরম থাকলেও রাতের দৃশ্য পুরোপুরি ভিন্ন। হেমন্তের শেষের এই শীতে শীতকালের আমেজ নিয়ে এসেছে সকালের পিঠাপুলি। কুয়াশা ভেজা ভোরে গ্রামের বাজারে বসতে শুরু করেছে ভাপা পিঠার দোকান।
এদিকে গ্রামের দরিদ্র মানুষের মধ্যে কাঁপুনি দিয়ে শীত আসছে। গত কয়েকদিন থেকেই শীতের কাপড়ের অভাবে রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন শিশু ও বয়স্করা। মাঝে মাঝে সূর্য উঁকি দিলেও কোথাও কোথাও বৃষ্টির মতো শিশির ঝড়ছে। শীতের কারণে অনেকে ঘর থেকে বের হতে পারছে না। তাছাড়া ঘন কুয়াশায় কারণে রাস্তাঘাটে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, ঘন কুয়াশা ও ঠাণ্ডার কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতজনিত রোগে ভুগছেন শিশুসহ নারী-পুরুষরা। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিচ্ছেন। জেলার সাত উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। এসব রোগীর মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. তনয় কুমার বলেন, ‘শীতজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুসহ নারী-পুরুষদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার বিভিন্ন এলাকার স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে ।’
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষ্ণ কুমার বলেন, ‘কুয়াশা আর শীতের কারণে উপজেলার কিছু এলাকার জমির ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। তবে বর্তমানে যে পরিমাণে কুয়াশা ঝরছে তাতে ফসলি জমির খুব ক্ষতি হবে না। কুয়াশায় ঢাকা ফসলি জমির পরিচর্যা করলেও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। এ কারণে জমি পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তোফাজ্জাল হোসেন সরকার বলেন, ‘অসহায় মানুষকে শীতের প্রকোপ থেকে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে গরম কাপড় বিতরণ। উপজেলার প্রত্যন্ত ও গ্রামাঞ্চলের মানুষসহ দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। শীতবস্ত্র চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবর আবেদন করা হয়েছে।’ এবারের শীতে অসহায় ও ছিন্নমূল মানুষকে যাতে দুর্ভোগে পড়তে না হয় সেজন্য গুরুত্ব সহকারে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।