
জরুরি যে কোনো সাহায্য পেতে এখন থেকে ৯৯৯ ডায়াল করেই মিলবে সেবা। ফায়ার সার্ভিস, এ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি পুলিশি সেবার জন্য ‘৯৯৯’ নম্বরের ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা যে কোনো সময় যে কেউ বিনা খরচে ৯৯৯ ডায়াল করে জরুরি সেবা নিতে পারবেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে ডিএমপির ক্রাইম অ্যান্ড কমান্ড সেন্টারে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ মহাপরিদর্শক একেএম শহীদুল হক এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এখন থেকে কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে দেখলে, প্রাণনাশের আশঙ্কা দেখা দিলে, কোনো হতাহতের ঘটনা চোখে পড়লে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে ও অ্যাম্বুলেন্সের প্রয়োজন হলে ৯৯৯ ডায়াল করলেই সেবা পাওয়া যাবে। ‘৯৯৯’ অপারেট করবে পুলিশ।
আগামী নির্বাচনে ২০০৮ সালের চেয়েও বড় বিজয় আসবে: জয়
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আরও বড় বিজয় পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, আগামী নির্বাচনে ২০০৮ সালের চেয়েও বড় বিজয় আসবে। আমি একটি জরিপ করেছি। তাতে এই ফল পাওয়া গেছে।
সোমবার আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এ কথা জানান।
আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকার তাগিদ দিয়ে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবেই। দেশের মানুষের বিশ্বাস ও সমর্থন আমাদের প্রতি চলে এসেছে। আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো দল বাংলাদেশে নেই।
দলের শৃঙ্খলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগে গ্রুপিং-লবিং থাকে; তবে আন্দোলন বা নির্বাচনের সময় সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে যায়।
তিনি আরও বলেন, বিজয় নিয়ে আমি চিন্তা করি না, কিন্তু ষড়যন্ত্র আছে। খেয়াল রাখতে হবে ৫ জানুয়ারির (গত সংসদ নির্বাচন) মতো কোনও ঘটনা-দুর্ঘটনা যেন না ঘটে। ওই সময়ের মতো আগুন সন্ত্রাস যেন না ঘটে।
আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা জানতে চাইলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আমি প্রার্থী হচ্ছি না। এটি আপনাদের আগাম জানিয়ে রাখছি। আমার উদ্দেশ্য দলকে ক্ষমতায় আনা। এমপি-মন্ত্রী হওয়ার লোভ আমার নেই।
আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, সেটি বড় কথা নয়। নির্বাচনটি অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হচ্ছে কিনা, সেটিই বড় কথা।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে নির্বাচনে আসতে বাধ্য করতে পারি না।
ওই জরিপটি কিভাবে হয়েছে জানতে চাইলে জয় বলেন, একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে জরিপ করানো হয়েছে। এতে আমিও জড়িত ছিলাম। আমি মনে করি, এটি ওয়ান অব দ্য মোস্ট অ্যাকুরেট জরিপ। প্রতিবছরই জরিপ করা হয় বলেও জানান তিনি।
সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের ১২শ কোটি ডলার বিনিয়োগের অভিযোগকে বিএনপির মহাসচিব সম্প্রতি বানোয়াট বলে দাবি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে জয় বলেন, প্রমাণ হয়েছে তারা কিভাবে মিথ্যা বলে। এফবিআই বাংলাদেশে এসে সাক্ষ্য দিয়ে গেছে। সেখানে ফখরুল সাহেব কিভাবে বলেন যে, দুর্নীতি নেই। তাদের দুর্নীতির টাকা বিদেশ থেকে ফেরত এসেছে। নিশ্চয় তাদের আরও (দুর্নীতির) টাকা আছে, ধরা পড়বে।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বেলা তিনটায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এতে রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মতামত শোনেন জয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন।