
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক পবিত্র শহর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানীর স্বীকৃতি নিয়ে করণীয় নির্ধারণে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে তুরস্ক যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
রবিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।
আগামী ১৩ ডিসেম্বর তুরস্কের অন্যতম বড় শহর ইস্তাম্বুলে বিশেষ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ৬ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন আল কুদস আস শরীফ-কে ইসরাইলের কথিত রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং সেইসঙ্গে তেল আবিবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তরের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। এতে আল-কুদস আস-শরীফ তথা প্যালেস্টাইন-ইসরাইল শান্তি প্রক্রিয়া এক অপ্রত্যাশিত হুমকির মধ্যে পড়েছে এবং আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্বে নতুনভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে করণীয় আলোচনার প্রেক্ষিতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বর্তমান সভাপতি তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান ওআইসি’র সদস্য রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্র/সরকার প্রধানদের এক জরুরি বিশেষ শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে সেই শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছেন।
এ শীর্ষ সম্মেলনের অব্যবহিত পূর্বে আগামী ১২ ডিসেম্বর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণের সভা এবং ১৩ ডিসেম্বর পূর্বাহ্নে ওআইসি’র পররাষ্ট্র মন্ত্রীগণের এক সভারও আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আসন্ন ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন (সিএফএম) ২০১৮ সালে বাংলাদেশ আয়োজন করবে।
বাংলাদেশ বর্তমানে সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির নতুন সদস্য এবং ঢাকায় ৪৫তম সিএফএম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিগগিরই সিএফএম-এর সভাপতিত্ব লাভ করবে। শীর্ষ সম্মেলনটির এক সপ্তাহের মধ্যে তুরস্ক হতে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সফর সংঘটিত হবে।
আন্তর্জাতিক এবং দ্বিপাক্ষিক উভয় প্রেক্ষিত বিবেচনায় সম্মেলনটিতে রাষ্ট্রপতির অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম শীর্ষ সম্মেলনকালীন সিএফএম-এ অংশগ্রহণ করবেন বলেও জানানো হয়।
গত বুধবার হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ভাষণে জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের নীতির পরিবর্তন ঘটে। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে আরব বিশ্ব নিন্দা জানালেও একে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এর পর থেকেই ফিলিস্তিনজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।