
জার্মানির বন শহরে চলছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন। দুই সপ্তাহব্যাপী সম্মেলনটি শেষ হবে শুক্রবার। তার আগে বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ।
পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পরিবেশ ও বন সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. হাছান মাহমুদ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।
ড. হাছান মাহমুদ জানান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সম্মেলনে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি সম্মেলনে আমরা অনেক আশা নিয়ে আসি। কিন্তু যখন আমরা ফিরে যাই তখন বেশিরভাগ সময় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনা।’ সাবেক এই পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘আজ সকাল পর্যন্ত লস অ্যান্ড ড্যামেজ বিষয়ে বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি। জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হওয়া মানুষদের জন্য কানকুনে অনুষ্ঠিত জলবায়ু সম্মেলনে ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ বিষয়টির আবির্ভাব হয়েছিল। প্যারিস চুক্তিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু বন সম্মেলনে এসে বিষয়টি প্রায় হারিয়ে গেছে।’
এছাড়া ড. মাহমুদ বলেন, প্রতিটি সম্মেলনে বাংলাদেশ অনেক অর্থ সাহায্যের অঙ্গীকার পেয়ে থাকে৷ কিন্তু সেই তুলনায় যা পাওয়া যায় তা খুবই নগণ্য। এর বাইরেও হতাশ হওয়ার মতো আরো অনেক বিষয় আছে বলে জানান তিনি। অবশ্য সম্মেলনের আরো কিছু সময় বাকি থাকায় এই সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অগ্রগতির আশা করছেন তিনি। ‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি সম্মেলনের শেষ দুই দিনে অনেক বিষয়ে বলার মতো অগ্রগতি হয়। আমি আশা করব এবারও সেটি হবে। ফলে আর আমাদের হতাশা নিয়ে দেশে ফিরতে হবে না।’
পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ুপরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ দায়ী না হলেও এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী তাপমাত্রা বৃদ্ধি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে রাখার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা ‘উচ্চাকাঙ্খী’বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার ঘোষণার পর ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশ এই চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে যে সমর্থন জানিয়েছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন পরিবেশমন্ত্রী। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিদেশি অর্থ সহায়তা প্রাপ্তির অপেক্ষা না করে বাংলাদেশ নিজস্ব তহবিল থেকে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ডে ৪০০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশ গত দুই দশকে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ করেছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, সাগরের পানি বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। ‘আমরা অনেক সময় বলি, এটি একটি স্লো-অনসেট ইভেন্ট। এর ফলে সবার মনে একটি ধারণা জন্মায় যে, তাহলে হয়ত এ ব্যাপারে পরে ব্যবস্থা নিলেও হবে। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। এটি খুবই জরুরি বিষয়। উপকূলীয় এলাকাগুলি বাংলাদেশের সবচেয়ে অরক্ষিত এলাকা।’
তিনি বলেন, সাগরের পানির উচ্চতা ২০ সেন্টিমিটার বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘লবণাক্ততা একটি বড় সমস্যা, নিরাপদ পানির অভাব দেখা দিচ্ছে। ফলে মানুষজন সেখান থেকে সরে যাচ্ছে।’