
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার বৈঠক করবেন নিম্ন আদালতে বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে।
গত ৮ নভেম্বর বুধবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম জানান, অনিবার্য কারণবশত ৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ১৬ নভেম্বর বৈঠকটি হবে।
এরআগে ৫ নভেম্বর সর্বশেষ শুনানির দিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুব আলম আদালতকে জানিয়েছিলেন ৯ নভেম্বর বৈঠকটি হতে পারে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম চার সপ্তাহের সময় আবেদন করেন।
ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় আপিল বিভাগ। এর আগে গত ৮ অক্টোবর আদালত গেজেট প্রকাশে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন। তার আগে একই বিষয়ে বহুবার সরকারকে সময় দেন আদালত। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারই আরও সময় চেয়ে বারবার আবেদন করা হয়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নয় বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত বছরের ৩১ অক্টোবর এক বাণীতে বিচার বিভাগে দ্বৈত শাসন চলছে বলে উল্লেখ করেছেন। বাণীতে তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধঃস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর হাইকোর্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলা হয়েছে। কিন্তু ১১৬ অনুচ্ছেদে যে বিধান দেয়া হয়েছে তা বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ।
এই অনুচ্ছেদ অনুসারে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্য পদে সময়মত বিচারক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। ১১৬ অনুচ্ছেদ পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলা সংক্রান্ত একটি খসড়া বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। কিন্তু গত বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে বলেন, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারি বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।