
আরিফ সরকার (পলাশবাড়ী-গাইবান্ধার) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে নিয়ন্ত্রনহীনভাবে গড়ে ওঠা বিপুল সংখ্যক কোচিং সেন্টার আজ ব্যাঙের ছাতার মত অলিতে-গলিতে স্থান করে নিয়েছে। আর ছাত্র/ছাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছে এ সব কোচিং সেন্টারগুলো । এ সব কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হলেও মান সম্মত শিক্ষা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার শহরের প্রায় অলিতে-গলিতে, বাসা, ভাড়াবাসায় অবাধে প্রাইভেট পড়ানো হয় ও কোচিং সেন্টারের সাইনবোর্ড, ব্যানার, নেমপ্লেট। এ কোচিংগুলো ঠিক কবে থেকে, কখন, কিভাবে জন্ম হল তা ঠিক করে বলা মুশকিল। তবে এটুকু বলা যায়, শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যেই মূলতঃ কোচিং সেন্টারগুলোর জন্ম । কিন্তু ক্রমশইতা লাভজনক ব্যবসায়ীক চিন্তা চেতনার কেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। ফলে শিক্ষকরা কোচিং সেন্টার পরিচালনা করতে কিংবা প্রাইভেট পড়ানোর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সেই সাথে যুক্ত হয়েছে উচ্চাভিলাস ও ব্যবসায়িক চিন্তা চেতনা। এ জন্য কোচিং সেন্টারগুলো পড়াশুনার মানের থেকে মুনফার দিকেই নজর দিচ্ছে বেশী। অল্প জায়গায় অনেকগুলো ছেলে-মেয়েকে ‘রেডিমেট জ্ঞান’ প্রদানের লক্ষ্যে পরিনত হয়েছে।
পলাশবাড়ি শহরে সরকারি ডিগ্রী কলেজ, বেসরকারি ডিগ্রী কলেজ, সরকারি হাইস্কুল, বেসরকারি হাইস্কুল সহ কিন্ডান গার্টেন ও প্রাইমারি যেমন রয়েছে তেমনি রয়েছে অসংখ্য নামে বেনামে কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট পড়ানোর আকর্ষণীয় জমজমাট ব্যবসা। এ ব্যবসার পাশাপাশী যুক্ত হয়েছে কলেজ, হাইস্কুলের স্যার/ম্যাডামের বাসায় পরানো । এসব শিক্ষক/প্রফেসররা শ্রেণীকক্ষে ভালোভাবে পাঠদান না করে বাসায় পড়ানোর পরামর্শ দেয়। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্র প্রতিনিধিকে বলেন- স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়লে ভাল নম্বর পাওয়া যায় আর শ্রেণিকক্ষে যা বুঝায়নি তা প্রাইভেটে বুঝায় এবং স্যার/ম্যাডামের বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ার জন্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের চাপ দেয় বলে জানা যায়।
এদিকে কোচিং বাণিজ্যের দৌরাত্বে শিক্ষা ব্যবস্থা নরবরে হয়েছে। দূবর্ল হয়ে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। সেই সাথে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেটের টাকা দিতে গিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে নিুবিত্ত ও মধ্যবিত্ত আয়ের অভিভাবকগণ। এ ব্যপারে শিক্ষার মান উন্নত করণ, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঠিক পাঠদান ব্যবস্থা করা এবং অনাচে-কানাচে এসব কোচিং সেন্টার, প্রাইভেট পড়ানোর স্থান গুলো আইনের আওতায় এনে ছাত্র/ছাত্রীদের সঠিক শিক্ষা ব্যবস্থা করার জোর দাবী জানিয়েছেন অভিজ্ঞ মহল।