
প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
রবিবার রাতে বঙ্গভবনে গিয়ে তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিচার বিভাগকে জনগণের বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল উল্লেখ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টসহ সকল স্তরের বিচারকগণ ন্যায়নিষ্ঠভাবে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘বিচার প্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টসহ বিচার বিভাগের সকল কর্মকর্তা ন্যায়নিষ্ঠ ও আন্তরিকতার সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’
বৈঠকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি আগামী ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জুডিশিয়াল কনফারেন্সে রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান।
তিনি আরো জানান, আগামী ২ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট দিবস পালিত হবে। তিনি সুপ্রিম কোর্ট দিবসের অনুষ্ঠানেও রাষ্ট্রপতিকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানান।
‘প্রধান বিচারপতির ফেরা না ফেরার সাথে রিভিউয়ের সর্ম্পক নেই’
রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার ফেরা না ফেরার সাথে ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে রিভিউ আবেদনের কোনো সম্পর্ক নেই।
রবিবার তিনি এসব কথা বলেন, এ্যটর্নি জেলারেল বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর্যবেক্ষণ নয়, পুরো রায়ের রিভিউ আবেদন করা হবে।
৭৯৯ পৃষ্ঠার সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের বৃহৎ পরিসরে পর্যালোচনা ও রিভিউ করতে সহকর্মীদের নিয়ে ১১ সদস্যের কমিটি করে দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। কমিটির সদস্যরা গত ১৫ অক্টোবর থেকে প্রতি কার্যদিবসে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত পর্যালোচনা থেকে রিভিউ আবেদন তৈরির কাজ করছেন।
উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত করে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে ওই রায়ে এ ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ন্যস্ত করেছে আপিল বিভাগ।
এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ বিশেষত রায়ের পর্যবেক্ষণের বিরুদ্ধে রিভিউয়ের আবেদন জানাবেন বলে জানা গিয়েছিল। এখন পুরো রায়টিই বাতিল চাওয়া হবে বলে জানালেন আইনমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপক্ষ সর্বোচ্চ আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর গত ১১ অক্টোবর মাহবুবে আলম জানিয়েছিলেন, রায় হাতে আসার নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদনের নিয়ম। এ সময়ের মধ্যেই আবেদন জানানো হবে।
আর গত ২৩ অক্টোবর তিনি বলেন, ‘রায়ে একজন ছাড়া সবাই (আপিল বিভাগের বিচারপতিরা) আলাদা আলাদা মত দিয়েছেন। কাজেই বৃহৎ পরিসরের রায় পর্যালোচনা করছি। নিজেদের ভেতরে আলাপ-আলোচনা করছি। পয়েন্টগুলো প্রস্তুত করছি। কাজ শেষ হলে রিভিউ আবেদন দায়েরের প্রস্তুতি নেবো।’
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, ‘এ রায়ের বিষয়ে পড়া হচ্ছে। ভালোভাবে পড়ে, পরীক্ষা করে রিভিউ আবেদন জানানো হবে। এজন্য সময় লাগছে।’
গত ১ আগস্ট সকালে ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়।
গত ৩ জুলাই ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত রায়টি দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলও খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
ফলে মহাজোট সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল হয়ে যায়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়েছিল।
এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজউদ্দিন ফকির ও মুরাদ রেজা, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু, একরামুল হক টুটুল, সরদার রাশেদ, খন্দকার দিলিরুজ্জামান ও মাসুদ হাসান পরাগ এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।