
ঢাকায় পাকিস্তানী হাইকমিশনার ফেসবুক পাতায় দেয়া একটি ভিডিওতে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে ঢাকায় পাকিস্তানের হাই কমিশনারকে তলব করে ক্ষমা চাইতে বলেছে বাংলাদেশে।
সম্প্রতি পোস্ট করা ওই ভিডিওতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছিলো। খবর বিবিসির।
যদিও পরে সেই পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তলব পেয়ে বিকেলে পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাফিউজ্জামান সিদ্দিকী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক ও কনস্যুলার) কামরুল আহসানের সাথে সাক্ষাত করেন। পরে মিস্টার আহসান সাংবাদিকদের জানান যে পাকিস্তানী হাইকমিশনার ফেসবুক পাতায় যে ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে তাকে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলা হয়েছে তার প্রতিবাদ করা হয়েছে বাংলাদেশের তরফ থেকে।
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানকে বলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক এবং তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে।’ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাকিস্তানী হাইকমিশনারকে আরো বলা হয় যে ইতিহাস বিকৃতি করলে দু’দেশের সম্পর্ক খারাপ হবে এবং এ ধরনের ভুলের জন্য পাকিস্তানকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
পাকিস্তানী হাইকমিশনারকে উদ্ধৃত করে কামরুল আহসান বলেন ভিডিওটিতে ভুল তথ্য দেয়ার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত নয়। এছাড়া ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল যেনো না হয় সেজন্যও পাকিস্তানকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান কামরুল আহসান।
তবে পাকিস্তানী হাই কমিশনার বা তার তরফ থেকে অন্য কেউ বিষয়টি নিয়ে কোন ধরনের মন্তব্য করেননি।
পাকিস্তান হাইকমিশনকে সরকারের কূটনৈতিক নোট
এর আগে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিতদের সম্পর্কে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুখোয়া (কেপিকে) প্রদেশের পার্লামেন্টে গৃহীত প্রস্তাবের কড়া নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনে কূটনৈতিক নোট পাঠিয়ে ওই প্রতিবাদ জানায়।
এতে বলা হয়, ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক নোটে বলা হয়েছে, কেপিকে পার্লামেন্টের প্রস্তাবে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সংঘটিত ঘৃণ্য অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের বিচার পাওয়ার অধিকারকে অস্বীকার করা হয়েছে এবং কেপিকে পার্লামেন্ট বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কথাটাই বেছে নিয়েছে।
একটি স্বাধীন দেশের আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে এ ধরনের কান্ডজ্ঞানহীন পক্ষপাতদুষ্ট মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য কেপিকে অ্যাসেম্বলিকে বলা হয়।
এ ধরনের মন্তব্যে কেপিকে অ্যাসেম্বলি নিজের অবস্থান ও দায়িত্বশীলতাকে খাটো করেছে।
এতে বলা হয়, এটা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে পাকিস্তানের প্রতি বার বার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও ক্ষতিকর প্রচারণা পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে অব্যাহত রয়েছে।