
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডাক্তার ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ডাক্তার-আনসারসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ রোগীর স্বজনদের পক্ষের দুইজনকে আটক করেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দিয়েছেন।
মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এস আই মো. বাচ্চু মিয়া জানান, রবিবার দুপুরে নওশাদ আহমেদ নামে ৫২ বছর বয়সী এক রোগী হাসপাতালের সিসিইউতে মারা যান। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করেন। পরে এ নিয়ে ডাক্তারদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্বজনদের পক্ষ হয়ে হাসপাতালের বাইরে থেকে আরো লোক এবং অন্য ডাক্তাররা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় কয়েকজন চিকিৎসক, নার্স, স্টাফ ও আনসার সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ গিয়ে রোগীর পক্ষের দুইজনকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।
এরপর চিকিৎসকরা নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে হাসপাতালে ঢোকার বিভিন্ন গেইট বন্ধ করে দেন এবং জরুরি বিভাগের সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা বন্ধ ছিল। এ সময়ের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মীদের হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।
ঢামেক মর্গে জমছে লাশের পর লাশ
রাজধানীতে প্রতিদিনই মিলছে একাধিক অজ্ঞাত লাশ। সেই সঙ্গে রয়েছে নবজাতকের লাশও। অজ্ঞাত লাশের ময়নাতদন্ত হচ্ছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক মর্গে। কিন্তু মাস দেড়েক ধরে দাফনের দায়িত্বে থাকা আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামের লাশ গ্রহণে ভাটা পড়েছে। আর ২০ দিন ধরে কোনো লাশই নিচ্ছে না তারা।
এর কারণ হিসেবে প্রথমদিকে কবরস্থানের জায়গার সংকটের কথা বলে আসছিলেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা।
কিন্তু মাসখানেক আগেই মোহাম্মদুপুরের বসিলায় ৭ একর জায়গা তাদের দেয়া হলেও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন সেখানে এখন বাঁশ, চাটাই আর শ্রমিকের খরচের টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে না এই অজুহাতে তারা লাশ দাফন বন্ধ রেখেছে। ফলে ঢামেক ফরেনসিক মর্গে জমছে লাশের স্তূপ। এর মধ্যে গত একদেড় মাসের লাশও রয়েছে। ছাড়িয়ে গেছে অর্ধশতাধিক। তার প্রায় অর্ধেক নবজাতকের লাশ।
অপ্রতুল রেফ্রিজারেটরে কয়েকটি লাশ রাখা হলেও সিংহভাগই ফেলে রাখা হয়েছে মেঝেতে। দাফনের অভাবে তা পচে-গলে যাচ্ছে। উৎকট দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে মর্গের আশপাশে। গতকাল ঢামেক মর্গে গিয়ে দেখা গেছে, একটি কক্ষে গাদাগাদি ও একটির ওপর আরেকটি লাশ রাখা হয়েছে।
ঢামেক মর্গের সহকারী রামু চন্দ্র দাশ বলেন, অজ্ঞাত পরিচয় লাশ দাফনের দায়িত্ব রাষ্ট্রের। সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ৭টি অজ্ঞাত পরিচয় লাশ মর্গ থেকে গ্রহণ করেছিল। বার বার ধর্ণা দিলেও তারা আর কোনো লাশ গ্রহণ করতে গাড়ি পাঠায়নি। ফোন করা হলে কবরস্থানে জায়গা সংকটের কথা বলে এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। সূত্র- আরটিএনএন