
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ সাত কর্মকর্তার বদলির সুপারিশ অনুমোদন করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
রবিবার দুপুরে এ অনুমোদন দেয়া হয়। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো রেজিস্ট্রার জেনারেল, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারসহ সাত জনের বদলির সুপারিশে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিয়ার পাঠানো কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
ওই বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিছু প্রশাসনিক পরিবর্তন করতে চান, সেগুলো উনি আমাকে অবহিত করেছেন। সে বিষয়ে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্রটি জানায়, এ তালিকায় রেজিস্ট্রার জেনারেল ছাড়াও রয়েছেন আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী, হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার জাবিদ হোসাইন ও সাব্বির ফয়েজ, স্পেশাল অফিসার ইসমাইল হোসেন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার কামাল হোসেন শিকদার, আজিজুল হক ও ফারজানা ইয়াসমিন, প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব আনিসুর রহমান।
এর আগে, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ত্যাগের আগে তার দেয়া বক্তব্যে ক্ষমতাসীনদের মধ্য তোলপাড় সৃষ্টি করে। তিনি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছেন বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে সরকারের ভেতরে-বাইরে আলোড়ন চলছে।
প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ ১১টি অভিযোগ এনে বিবৃতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত বলে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেছেন সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
অন্যদিকে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে সরকার বিচারব্যবস্থা ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র করছে তা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করছেন বিএনপি ও সরকারবিরোধী আইনজীবীরা।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৩ জুলাই বিচারপতি অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহালের পক্ষে মত দেন। এরপর ১ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যবেক্ষণসহ প্রকাশ করা হয়। এই রায় নিয়ে সরকার ও প্রধান বিচারপতির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
সে জন্য প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। প্রধানমন্ত্রীসহ দল ও সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে মধ্যম সারির নেতা-মন্ত্রীরাও আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরব হন। তারা প্রধান বিচারপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার অপসারণও দাবি করেন। প্রধান বিচারপতির অপসারণ চেয়ে জাতীয় সংসদেও সরব ছিলেন সংসদ সদস্যরা।
এমন পেক্ষাপটে নানা নাটকীয়তায় গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অসুস্থতার কারণে এক মাসের ছুটির আবেদন করেছেন বলে জানায় আইন মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষরসহ রাষ্ট্রপতি বরাবর ছুটির একটি আবেদনপত্রও গণমাধ্যমে তুলে ধরেন।
পরদিন বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শুধু তা-ই নয়, প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রশাসনিক পূর্ণক্ষমতা ভোগ করবেন বলেও ঘোষণা দেয় সরকার।
তবে প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে রাজনীতি ও বিচারাঙ্গনে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলে। এরপর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছুটি কাটাতে বিদেশে যাবেন বলে জানানো হয়। বিএনপিসহ সরকারবিরোধীরা এটিকে সরকারের নতুন ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য জানতে পারছিলেন না কেউ।
বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির সাথে একাধিকবার দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে শুক্রবার রাতে প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় বাসভবনের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে তিনি অল্প কথায় লিখিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরেন।