
রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল হামিদের কাছে এক মাসের ছুটি চেয়ে আবেদন করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। বিষয়টি জানার পরই প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হাজির হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নেতারা।
সোমবার বিকালে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং সম্পাদক ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে কয়েকজন আইনজীবী নেতা এসে উপস্থিত হন।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যেই তারা এখানে এসেছেন বলে প্রাথমিকভাবে সাংবাদিকদের জানান আইনজীবী নেতারা। তবে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিস্তারিত জানানো হবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক দু’জনই বিএনপিপন্থী আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় ১ আগস্ট প্রকাশিত হয়। ওই দিনই পূর্ণাঙ্গ রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেয়া হয়।
রায় প্রকাশের পর এ নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও সরকারপন্থী আইনজীবীরা। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তোলেন।
১৪ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বিচারিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংসদে ওই দিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা হয়, যাতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের সংশোধনী বাতিল করেছে।
২৭ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি ছিল। কাল থেকে নিয়মিত আদালত বসছে। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতি ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশ সফরে ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত করে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল ৩ জুলাই খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।