
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু যখন ছয় দফা আন্দোলন ঘোষণা করে কারাগারে গেলেন তখন আট দফা নাকি ছয় দফা এটা নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দ্বিমত করেছিলেন। আমি এখন তাদের নাম বলতে চাই না। কিন্তু আমার মা ছিলেন ছয় দফার পক্ষে। তিনি এ ব্যাপারে অটল থাকেন। এজন্য কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসেনি।
বৃহস্পতিবার শোকের মাস আগস্ট উপলক্ষে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব স্মরণে এক আলোচনা সভা তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগ এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
শেখ হাসিনা বলেন, সবসময় বঙ্গবন্ধুর পাশে ছিলেন তার সহধর্মিনী। স্বাধীনতার পেছনে বঙ্গমাতার অবদান অনেক। তাকে পাশে পেয়েছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা আনতে পেরেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলো জামিন দিতে চেয়েছিল, তাকে নেয়ার জন্য বিমানও প্রস্তুত ছিল। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা অনেকেই এর পক্ষে ছিলেন। তারা বঙ্গবন্ধুকে বোঝানোর চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তার সহধর্মিনীর পরামর্শে তাতে সম্মত হননি।
শেখ হাসিনা বলেন, নেতারা বঙ্গবন্ধুকে বোঝাতে না পেরে আমার মায়ের কাছে আসেন। তারা এসে সবচেয়ে জঘন্য কথাটি বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুকে প্যারোলে জামিনের অনুমতি না দিলে আপনাকে বিধবা হতে হবে। কিন্তু আমার মা তাদেরকে বলেছিলেন, বন্দী আরও অনেকেই আছে, তাদের স্ত্রীদের কথাও তো চিন্তা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু দেশের জন্য কাজ করেন। তিনি সসম্মানে ফিরে আসবেন।
দলের জন্য বঙ্গমাতার অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি দল থেকে, সরকার থেকে কোনো কিছু নেননি। বরং দলের প্রয়োজনে নিজের গহনাগাটি পর্যন্ত তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন।
যেসব নেতা কারাগারে ছিলেন তাদের বাড়িতে গিয়ে বঙ্গমাতা বাজারখরচ দিয়ে আসতেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, বঙ্গমাতা খুনি মোশতাকের বাসায়ও বাজারখরচ পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু সেই মোশতাক গাদ্দারি করে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছেন।