গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গত ২৩ মে রাত ১১টায় অপহরণ হওয়া অপহৃত ভিকটিম কিশোরীকে ৪২ দিন পর শুক্রবার সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জ হতে উদ্ধার করেছে পিবিআই গাইবান্ধা।
উল্লেখ্য, উজান বুছাগাড়ী কামারের ভিটা গ্রামস্থ উদ্ধারকৃত ভিকটিম কিশোরীকে নিজ বসতবাড়ীর পূর্বদুয়ারী ঘরের কাঠের দরজার দড়ি কেটে। তার মাকে ছুড়ি ও চাকু মেরে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে জোড়পূর্বক অপহরণ করিয়া বাড়ীর অদূরে নদীতে শ্যালো মেশিন চালিত নৌকা যোগে তিস্তা নদী পার করে পূর্বদিকে নিয়ে যায়। এ সময়ে ভিকটিম কিশোরীর মায়ের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলেও নদী পারাপারে তৎক্ষনাত ব্যবস্থা না থাকায় ভিকটিম কিশোরীটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে অপহৃত কিশোরীটি কে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে অবশেষে পরিবার পক্ষ হতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গাইবান্ধায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় কুড়িগ্রাম জেলার রাজাহাট থানার মানাবাড়ী সমনারায়ন নাজিমখাঁ গ্রামের মহেন্দ্র দাসের ছেলে অপহরণকারী মিলন দাস ও সুজন দাস একই গ্রামের নরেস বসু ছেলে নিশি মাষ্টার, মৃত আব্দুল ছাত্তারের ছেলে আলী বকস্ মাষ্টার সহ অজ্ঞাত ৫/৬ জন কে আসামী করে। পিটিশন মামলা দায়ের করে। মামলা নং ১১৭/২০১৭। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি নিয়ে তদন্ত দেয় পিবিআই গাইবান্ধা কে মামলার তদন্তের নির্দশ প্রদান করে।
এরপর তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে পিবিআই গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন মিয়া পিপিএম এর নেতৃত্বে এস আই জাকারিয়াসহ সঙ্গীয় অফিসার্স ফোর্সগণ গোপন সংবাদের সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নে লকিয়াপাড়া গ্রামের কদমতলা মোড় হতে গতকাল সন্ধ্যার সময় ৪২ দিন পর অপহরণকৃত ভিকটিম কিশোরীটিকে উদ্ধার করে পিবিআই গাইবান্ধা। সে সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।
ভিকটিমকে উদ্ধারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ পিবিআই এর তদন্ত টিমের কাছে অপহৃত কিশোরীটি জানায়, অপহরণকারীরা বিভন্ন জায়গায় আটকিয়ে রেখে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে হয়েছে বলে দাবী করে।
পিবিআইয়ের হাতে উদ্ধার হওয়া ভিকটিম কিশোরী শাররিক ও মানসিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় গাইবান্ধা সদর হাসপালে ভর্তি করা হয়।
পুলাশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাইবান্ধার অতিরক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন মিয়া প্রেস রিলিজে জানান,বিজ্ঞ আদালতে পিটিশন মামলাটি দায়ের হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অনুযায়ী আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় অপহরণকারীদের কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা সম্ভব্য হয়নি। তবে অপহরণকারিদের দ্রুত গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যহত আছে।