
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংঘাত এড়িয়ে সুষ্ঠু ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া ও নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের তাগিদ দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সোমবার বেলা ১১টা থেকে নির্বাচন ভবনে ইসির সংলাপে নাগরিক প্রতিনিধিরা তাদের মত তুলে ধরেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে অন্তত ৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
বৈঠক থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সুশীলরা। এসময় বৈঠকে অংশ নেয়া সিপিডি ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ইসিকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। তারা যে দৃঢ় এবং স্বাধীন কমিশন এটি জনগণকে বুঝাতে হবে। সেটি মানুষের সামনে দৃশ্যমান করতে হবে এবং তা প্রমাণ করতে হবে। নির্বাচনী আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। প্রশাসন কীভাবে নিরপেক্ষ থাকবে এবং তাদের নিরপেক্ষ রাখতে ইসি কীভাবে ভূমিকা রাখবে তা দেখতে হবে।’
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘ইসি কোনো ইস্যু রেইজ করেনি, তারা বলতে দিয়েছে। ইসিকে তার ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে হবে, বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘কমিশনকে সক্রিয় হতে হবে। সকল দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসতে হবে। সে দায়িত্ব ইসিরই। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট ও ভোটারের মনে যে ভয়ভীতি রয়েছে তা দূর করতে হবে- এটা নিয়ে সংলাপে কারও দ্বিমত ছিল না।’
আসিফ নজরুল আরো বলেন, ‘কেউ কেউ বলেছেন এ নিয়ে ইসির কথা বলা উচিত নয়। আমাদেরও কথা বলা উচিত নয় বলে কেউ কেউ বলেছেন। ইসি চেষ্টা করেছে সবার বক্তব্য শোনার। সবচেয়ে বড় কথা হল- এখন ইসি কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখা, এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
সংলাপ শেষে হোসেন জিল্লুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সবাই খোলামেলা মত দিয়েছেন। অনেক বিষয় মতৈক্যের মত হয়েছে, কিছু বিষয় নিয়ে ভিন্নমত হয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিজে সক্রিয় হওয়া, নিকট অতীতে দেখেছি ইসি নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগে অনীহা দেখিয়েছে। যেটা সুষ্ঠু নির্বাচন অর্জনে কাজে দেয়নি। ইসি নিজে যেন সক্রিয় হয়।’
অসিফ নজরুল বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে সংলাপ হওয়া দরকার। কিন্তু নির্বাচনকালীন সরকার হিসেবে বর্তমান সরকার থাকবে নাকি অন্যরা থাকবে সেটিও একটি বিষয়। তবে এ সময়ে সংসদ ভেঙে দেওয়া জরুরি। না হলে ক্ষমতার বলয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ওপর ইসির কর্তৃত্বটা রাখা খুবই জরুরি।’
ইসির নির্বাচনী সংলাপে অংশ নেয়া আরেক নাগরিক প্রতিনিধি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘সব দলকে ভোটে আনতে হবে এবং সবার জন্যে সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে আইনে ঘাটতি থাকলে তার ব্যবস্থা নেবেন। নাগরিক প্রতিনিধিরা সঙ্গে থাকবেন।’