শরীফ মেহেদী হাসান,তারাগঞ্জ,রংপুরঃ
এক সময় যে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিল কেবল ফাইলের স্তূপে সীমাবদ্ধ, আজ সেখানে বইছে আধুনিক ও জনবান্ধব সেবার হাওয়া। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুনাব্বর হোসেনের সৃজনশীল পরিকল্পনা ও সাহসিকতাপূর্ণ নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে উপজেলার সামগ্রিক চিত্র। অফিস কক্ষের চার দেয়াল ভেঙে তিনি এখন সাধারণ মানুষের ‘আস্থার প্রতীক’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
নিবন্ধনে দেশসেরা অর্জন:
ইউএনও’র সরাসরি তদারকিতে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে তারাগঞ্জ উপজেলা অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩৩ শতাংশ বেশি কাজ সম্পন্ন করে এই উপজেলা এখন জাতীয় পর্যায়ের রোল মডেল সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবেল রানা ডিজিটাল সেবা পৌঁছে দিতে তিনি প্রতিটি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে করেছেন আরও শক্তিশালী।
মাঠে প্রশাসন, স্বস্তিতে জনগণ: এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুনাব্বর হোসেন
বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে ভোরবেলা বাজারে হানা দেওয়া কিংবা মধ্যরাতে অসহায় মানুষের দুয়ারে খাদ্য সহায়তা নিয়ে পৌঁছানো—ইউএনও মুনাব্বর হোসেনের কাছে এখন নিত্যনৈমিত্তিক কাজ। জ্বালানি সংকট নিরসন ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে তার কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
টেকসই উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা
কেবল দৈনন্দিন কাজ নয়, তারাগঞ্জকে আগামী ২০ বছরের উপযোগী করে গড়ে তুলতে তিনি হাতে নিয়েছেন ৫ বছর মেয়াদী (২০২২-২৭) উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা। গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন এবং স্মার্ট ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনছে।
দুর্যোগ ও মানবিকতায় অগ্রণী
সম্প্রতি জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসে তার সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত জনসচেতনতামূলক মহড়া ও কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে দুর্যোগ মোকাবিলার সাহস জুগিয়েছে। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় প্রকৃত দুস্থরা যাতে সরকারি ঘর ও ভাতা পায়, তা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সুবিধাভোগী নির্বাচন করছেন।
তার এই কর্মমুখী ও জনবান্ধব উদ্যোগের ফলে তারাগঞ্জ উপজেলা এখন রংপুরের অন্যতম সমৃদ্ধ ও সুশাসিত জনপদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, “প্রশাসন যদি এমন মানবিক হয়, তবে দেশের উন্নয়ন কেউ রুখতে পারবে না।”
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.