খবরবাড়ি ডেস্কঃ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একাব্বর আলী নামে এক কৃষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার দুই আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (৯ মার্চ) র্যাব-১৩ ক্যাম্পের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেফতার হওয়া আসামীরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্য বেলকা ঝাঁকুয়াপাড়া গ্রামের মৃত আজি জুয়াড়ুর ছেলে নুরু মিয়া (৩৮) ও একই গ্রামের আব্দুর রহিম হাজীর ছেলে মোজাম্মেল হক (৪৮)।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসামীদের সাথে একাব্বর আলীর দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ৬ মার্চ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আসামীরা দলবদ্ধভাবে একাব্বর আলীর জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে এবং জোরপূর্বক পানি নিয়ে হালচাষ শুরু করে। একাব্বর আলী এতে বাধা দিতে গেলে আসামীরা তার বাড়িতে গিয়ে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সোয়া ৯টার দিকে একাব্বর আলী মারা যান। এ ঘটনার পরদিন নিহতের ছেলে নুর আলম মিয়া বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই আসামীরা আত্মগোপনে চলে যান।
আসামীদের গ্রেফতারে অভিযানের একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩ (রংপুর) ও র্যাব-১১ (নারায়ণগঞ্জ) যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। গত রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন চানমারি নতুন রাস্তা এলাকা থেকে পলাতক আসামী নুরু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার কদমতলী থানাধীন তুষারধারা সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপর আসামী মোজাম্মেল হককে গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রতিরোধে র্যাব সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।