জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না,লালমনিরহাট,রংপুরঃ
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রতিটি কর্মদিবসে সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও লালমনিরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে (খামারবাড়ি) এর কোনো প্রতিফলন নেই।
রবিবার (১ মার্চ) পূর্ণ কর্মদিবস চলাকালেও দুপুর ২টা পর্যন্ত জাতীয় পতাকার স্ট্যান্ডটি শূন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। খোদ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তার মুখে ‘পতাকা উত্তোলনের নিয়ম জানা নেই’ এমন মন্তব্যে সাধারণ মানুষ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার দুপুরে খামারবাড়ি প্রাঙ্গণে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কোনো আয়োজন নেই। অথচ ‘বাংলাদেশ জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ (সংশোধিত-২০২৩)’ অনুযায়ী, সকল সরকারি অফিসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা উত্তোলন বাধ্যতামূলক।
সেখানে পরামর্শ নিতে আসা কৃষক রাসেল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত এই পতাকা অফিসের সামনে ওড়ার কথা, কিন্তু খুঁটিটি ফাঁকা পড়ে আছে। এটি আমাদের জন্য চরম অপমানের।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলার রহমান এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকা কর্মদিবসেও না তোলা চরম দায়িত্বহীনতা। এটি জাতীয় প্রতীকের প্রতি অবমাননা। এমন অবহেলার বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাঈখুল আরিফিন এক বিস্ময়কর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পতাকা উত্তোলনের নিয়মের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি পরবর্তীতে আইনটি দেখে নেব। আইন থাকলে অবশ্যই উত্তোলন করা হবে। পরবর্তীতে তাকে বিধিমালা ও আইনের ধারা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা আইনের লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তার সাথে কথা বলবো এবং পরবর্তীতে যাতে এ ধরনের ধৃষ্টতা না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, স্থানীয়দের অভিযোগ বর্তমান উপ-পরিচালক এই কার্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত পতাকা উত্তোলন করা হয় না। বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.