শরীফ মেহেদীহাসান,তারাগঞ্জ,রংপুরঃ
জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এবং পশুর প্রতি অমানবিক নিষ্ঠুরতা রোধে এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন তারাগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের তারাগঞ্জ বাজারে এক ঝটিকা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তিনি অসাধু চক্রের এক বিভীষিকাময় কর্মকাণ্ড রুখে দিয়েছেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোনো রকম কালক্ষেপণ না করে ইউএনও মোনাব্বর হোসেন যখন বাজারের গোহাটিতে উপস্থিত হন, তখন সেখানে এক অমানবিক দৃশ্য দেখা যায়। কোনো ভেটেরিনারি কর্মকর্তার অনুমতি তোয়াক্কা না করেই আইনের তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত নির্মমভাবে একটি গর্ভবতী পশু জবাই করে মাংস বিক্রির আয়োজন চলছিল। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এমন গর্হিত অপরাধ যখন মধ্যগগনে, ঠিক তখনই হিরো’র মতো হাজির হয়ে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি।
পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় অপরাধী মোঃ আক্তারুল ইসলামকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে ইউএনও প্রমাণ করেছেন যে, জনস্বার্থের প্রশ্নে তিনি কতটা আপসহীন।
ইউএনও’র এই তড়িৎ ও সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা এখন তারাগঞ্জের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মতে, মোনাব্বর হোসেনের মতো একজন দক্ষ, কর্মতৎপর ও মানবিক কর্মকর্তার কারণেই আজ উপজেলার মানুষ নিরাপদ বোধ করছেন। তার এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অসাধু ব্যবসায়ীদের মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে।
অভিযান শেষে ইউএনও মোনাব্বর হোসেন এক কঠোর বার্তায় জানান, “জনস্বাস্থ্য ও পশুর জীবন নিয়ে কোনো প্রকার ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না। নিরাপদ মাংস নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এই কঠোর নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম নিয়মিত চলবে।”
মোনাব্বর হোসেন সাহেবের এই বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফলে তারাগঞ্জ উপজেলা আজ একটি আদর্শ ও সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক মডেল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.