শরীফ মেহেদী হাসান,তারাগঞ্জ,রংপুরঃ
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় এক শোকাহত পরিবারের মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাব্বর হোসেন। কুর্শা ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামের পল্লী বিদ্যুৎ কর্মচারী মঞ্জুরুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যুতে যখন তার পরিবার ও অবুঝ সন্তানদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন, ঠিক তখনই এক পরম মমতায় অভিভাবকের বেশে পাশে দাঁড়িয়েছেন এই জনবান্ধব কর্মকর্তা।
হৃদয়বিদারক ঘটনার নেপথ্যে:
পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে
হত্যার শিকার হন নিহত মেহনতি মানুষ মঞ্জুরুল ইসলাম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তার স্ত্রী ও নাবালক তিন সন্তানরা যখন দিশেহারা, তখন শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়। সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে যখন স্বজনরা নির্বাক, তখনই খবর পেয়ে ছুটে আসেন তারাগঞ্জের ইউএনও মোনাব্বর হোসেন।
প্রশাসনের মানবিক স্পর্শ:
কেবল দাপ্তরিক নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে, হৃদয়ের তাড়নায় এই শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ান তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে দাফন-কাফন ও জরুরি ব্যয়,শুকনো খাবার দিয়েছেন ও বিভিন্ন খরচ নির্বাহের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। আর্থিক সহায়তার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তার সান্ত্বনা ও সহমর্মিতা, যা পরিবারটিকে এই কঠিন সময়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।
প্রশংসায় পঞ্চমুখ পুরো জনপদ:
প্রশাসনের এমন সংবেদনশীল ভূমিকা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সচরাচর কর্মকর্তাদের ফাইলবন্দি কাজের বাইরে এমন মানবিক রূপ দেখা বিরল। ইউএনও মোনাব্বর হোসেনের এই উদ্যোগের পর এলাকাবাসী তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্রই তাকে ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, এমন দরদী ও জনবান্ধব কর্মকর্তার হাত ধরেই প্রশাসন সাধারণ মানুষের প্রকৃত আশ্রয়ে পরিণত হয়।
ইউএনও মোনাব্বর হোসেন এই মানবিক দায়িত্ববোধ প্রসঙ্গে জানান, প্রশাসন সবসময় জনগণের পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে এই অসহায় সন্তানদের ভবিষ্যতে যাতে কোনো বাধা না আসে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ও সহমর্মিতা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন সবসময় কাজ করবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.