খবরবাড়ি ডেস্কঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার ও প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ প্রেস কাব পলাশবাড়ী উপজেলা শাখা কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হাসানুর রহমান বলেন, আমি উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামে সুনামের সাথে সামাজিক ও পেশাগত জীবন যাপনের পাশাপশি পিতা-মাতার ভরণ পোষণ এবং দায়িত্ব পালন করে আসছিলাম। এক পর্যায় আমার পিতা মো. মাহাবুব ইসলাম ঝালিঙ্গী মৌজার ৭ শতক জমি বিক্রির বিপরীতে টাকা নিয়ে গত ২৪/০৭/০৮ সালে ৩৪৩৭ নং দলিল মূলে আমার নামে হেবা সম্পাদন করেন।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে পেশাগত কারণে ঢাকায় অবস্থান কালে আমার মামা জহুরুল হকের প্ররোচনায় ও মায়ের দাবীর প্রেক্ষিতে গত ০৬/০৮/০৮ সালে আমার পিতা মাহাবুব ইসলাম কর্তৃক একই মৌজায় ১৬ শতক জমি ৩৬১২ নং দলিল মূলে আমার মা মোছা. হাসনা বেগমের নামে হেবা করে দেন। তবে আমার মা নিজের ভুল বুঝতে পেরে উল্লেখিত ১৬ শতক জমি গত ২৭/০২/১১ সালে ১৩৩০ নং হেবা দলিল মূলে আমার পিতাকে ফেরত প্রদান করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মামা জহুরুল হক পুনরায় ওই জমি তার বোন মোছা. হাসনা বেগমের নামে লিখে দেওয়ার জন্য আমার পিতাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ হুমকি অব্যাহত রাখেন। আমার পিতা তার নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে পলাশবাড়ী থানায় গত ০৭/০২/১১ সালে জহুরুল হকের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরী রুজু করেন।
তিনি আরও বলেন, আমার ২য় বোন মাহফুজা ইসলাম মনি নিজের ও তাঁর স্বামীর চাকুরীর জন্য টাকার প্রয়োজন হলে পিতা-মাতার নিকট (পরিশোধের শর্তে) টাকা দাবী করে বসে। আমার মা মোছা. হাসনা বেগম সাতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আমার স্ত্রী মোছা. উম্মে মাহবুবা খানমের নিকট হতে ৩০/০৫/২২ তারিখে ৯ লাখ টাকা কর্জ নিয়ে মেয়েকে প্রদান করেন। এরপর আমার পিতা ঝালিঙ্গী মৌজার ওই হেবার ৭ শতক জমিসহ মোট ১৮ শতক জমি ২১/১০/২৪ সালে ৫৪৫১ নং কবলা দলিল মূলে আমার নিকট বিক্রয় করে তার ৩ মেয়েকে প্রদান করেন।
আমি পিতার হেবায় প্রাপ্ত ৭ শতক জমি ভোগদখল করা অবস্থায় আমার বোন মাহফুজা ইসলাম মনি ও তার স্বামী শামিম মিয়ার কু-পরামর্শে আমার মা মোছা. হাসনা বেগম ওই জমি জবর দখলের মিথ্যা মারপিটের অভিযোগে গত ১৬/০২/২২ সালে বিজ্ঞ আমলী আদালত, পলাশবাড়ী, গাইবান্ধায় (১৬ সিআর ৩৬/২২) মামলা দায়ের করেন। দায়েরকৃত মিথ্যা মামলাটি ২৮/০৪/২২ তারিখে বিজ্ঞ আদালত খারিজ করেন।
অপরদিকে; আমি আমার শ্রদ্ধাভাজন মা-বাবার বসবাসের জন্য পুরাতন বাড়ির পাশে নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করে দেই। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় আমার মাতা-পিতা, বোন ও তার স্বামী ছাড়াও অপর বোন মিনা বেগমের ছেলে মকদুম, মুক্তাদির এবং দেবর ফিরোজ মিয়ার কু-পরামর্শে মিথ্যা মারপিট ও বাড়ি হতে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনে ০৮/০১/২৬ তারিখে পলাশবাড়ী থানায় এজাহার দাখিল করেন। ওই এজাহার ভিত্তিতে থানা পুলিশ আমাকে আটক করে।
প্রসঙ্গ; ওই মিথ্যা মামলার স্বাক্ষী স্বয়ং মো. শরিফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এফিডেভিট মূলে আদালত আমাকে জামিন মঞ্জুর করেন। ওই মামলায় মুক্তি পেয়ে বাড়িতে পৌঁছার পূর্বেই আমার মা মোছা. হাসনা বেগম কুচক্রী আত্মীয় স্বজনদের পরামর্শে ২৯/০১/২৬ তারিখে পলাশবাড়ী থানায় আবারও মিথ্যা অভিযোগে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।
হাসানুর রহমান আরও বলেন, পিতার জমি ক্রয় করা এবং আমার স্ত্রীর নিকট হতে নেয়া নগদ ৯ লাখ টাকা ফেরত না দেয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে কুচক্রী আত্মীয় স্বজনদের পরামর্শ ও প্ররোচনায় আমার পিতা-মাতা কর্তৃক একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ ও মামলায় আমি, আমার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে নিয়ে পারিবারিকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত এবং অসহায়ত্ববোধ করছি।
এমতাবস্থায়; উল্লেখিত বিয়য়ে পরিত্রাণ পেতে ন্যায়বিচার এবং প্রতিকার চেয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত পূর্বক ন্যায়বিচারসহ যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.