খবরবাড়ি ডেস্কঃ
রমজান মাস এলেই দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা বাজার তদারকি জোরদার হয়। ভেজালবিরোধী অভিযান, অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের সক্রিয়তা চোখে পড়ে। বিশেষ করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও জরিমানা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। অনেক জায়গায় জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ফুটপাত দখল উচ্ছেদে অভিযান চালায়।
কিন্তু গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে চিত্র ভিন্ন। স্থানীয়ভাবে এখন পর্যন্ত ভেজালবিরোধী দৃশ্যমান কোনো অভিযান কিংবা ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা থাকলেও নিয়মিত তদারকি নেই বলে ক্রেতাদের দাবি।
রমজানে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে মূলত নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্যের কারণে। এই সময়েই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বাজারে নজরদারি। কিন্তু যদি তদারকির অভাব থাকে, তাহলে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেবে, এটাই স্বাভাবিক।
অন্যদিকে, ফুটপাত দখল করে স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকান বসানোর ফলে পথচারীদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান না থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে, যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভোক্তা অধিকার ও উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তখন পলাশবাড়ীতে সেই উদ্যোগ অনুপস্থিত কেন? সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকরা।
রমজান সংযম ও নৈতিকতার মাস। এই মাসে বাজারে স্বচ্ছতা, ন্যায্যমূল্য ও জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বই নয়, নৈতিক কর্তব্যও বটে। এখন দেখার বিষয়, পলাশবাড়ীর প্রশাসন কবে এই প্রত্যাশার জবাব দেয়।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.