খবরবাড়ি ডেস্কঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পলাশবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন (৫৭) মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারে দীর্ঘদিন ধরে জেলবন্দী রয়েছেন তিনি। জেলবন্দী থাকাবস্থায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাত ১টার দিকে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায় জেল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাঁকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে এবং অবস্থার অবনতি ঘটলে মুমূর্ষ অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
গাইবান্ধা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গাইবান্ধা সদর থানার জিআর ১৭৬/২৫ একটি মামলার হাজতি হিসেবে তিনি কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর পুলিশ রাজধানী ঢাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন শেষে মরদেহ তাঁর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। তিনি ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। মাঝে মধ্যে অসুস্থ হলে কারাগারেই তিনি চিকিৎসা নিতেন। লিপন সরকার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির মধ্যদিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গণে পদার্পণ করেন। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি কয়েক মেয়াদে পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি যথাক্রমে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর ২০১৮ সালে থেকে অদ্যাবধি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
প্রায় ২ বছর ধরে কারাগারে জেল হাজতি হিসেবে তিনি কারাবন্দী ছিলেন। পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রথমে প্রভাষক এবং পরবর্তীতে তিনি উপাধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি পলাশবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
পলাশবাড়ী পৌরশহরের বৈরি হরিণমারী (শ্রীপুর) গ্রামের সম্ভান্তÍ সরকার পরিবারের কৃতি ফুটবলার মরহুম আব্দুল জোব্বার সরকারের তৃতীয় ছেলে শামিকুল ইসলাম সরকার লিপন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক মেয়ে-জামাতা, ভাই-বোন, পাড়াপ্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, পরিচিতজন, অসংখ্য শুভাকাঙ্খীসহ গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠন সমূহ পৃৃথক বিবৃতিতে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনাসহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাদ এশা পৌরশহরের বৈরী হরিণমারী (শ্রীপুর) গ্রামের নিজ বাসভবন চত্ত্বরে বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসুল্লীর অংশগ্রহণে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.