দুই বছরের অবরোধ শিথিলের পর গাজা ও মিসরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্ত পুরোপুরি পুনরায় খোলার অপেক্ষায় আছেন ফিলিস্তিনিরা।
প্রায় দুই বছর আগে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশদ্বারটির নিয়ন্ত্রণে নেয় ইসরাইল। রোববার আংশিকভাবে সীমান্তটি খুলে দেওয়া হয়েছে।
রাফাহ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
রাফাহ সীমান্তকে গাজায় সহায়তা প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবে ধরা হয়। গত কয়েক মাস ধরে সহায়তা সংস্থাগুলো রাফাহ সীমান্ত খোলার আবেদন জানিয়ে আসছিল। রাববার সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে এ সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়।
ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানায়, সোমবার প্রায় ১৫০ জনের গাজা ছেড়ে মিসরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫০ জন রোগী। একই দিনে প্রায় ৫০ জন গাজায় প্রবেশ করবেন বলেও জানানো হয়।
কান জানায়, প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা সীমান্তটি খোলা থাকবে।
রোববার তোলা এএফপি ছবিতে দেখা যায়, মিসর অংশে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে অ্যাম্বুলেন্স। চিকিৎসার জন্য বেরিয়ে যেতে যারা অনুমতি পাবেন, তাদেরই প্রথমে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
হামাসের অধীনে পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রায় ২০০ রোগী সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় আছেন।
মোহাম্মদ নাসির নামে এক ফিলিস্তিনি বলেন ‘রাফাহ সীমান্ত আমাদের জীবনরেখা।’
যুদ্ধের শুরুর দিকে আহত হলে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার এমন একটি অস্ত্রোপচার দরকার, যা গাজায় সম্ভব নয়। বিদেশে করাতে হবে।’
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও টানা দুই বছরের যুদ্ধে সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চলছে।
২০২৪ সালের মে মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনী সীমান্তটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর শুধু ২০২৫ সালের শুরুতে অল্প সময়ের জন্য সীমিত পরিসরে এটি খোলা হয়।
মিসরের ‘কায়রো নিউজ’ জানায়, মিসর অংশের সীমান্ত ‘চব্বিশ ঘণ্টাই’ খোলা থাকবে। গাজা থেকে আসা রোগীদের নিতে মিসরের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে মিসর ও জর্ডানের নেতারা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ নতুন করে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে পুনরায় সীমান্ত খুলে দেওয়ার আগেও সহিংসতা থামেনি। শনিবার ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, রাফাহে একটি সুড়ঙ্গ থেকে যোদ্ধারা বেরিয়ে আসার পর তারা পাল্টা হামলা চালায়।
রোববার ইসরাইল আরও ঘোষণা দেয়, গাজায় ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (এমএসএফ)-এর মানবিক কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে। সংস্থাটি তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অপরদিকে এমএসএফ বলেছে, তালিকা দিলে কর্মীরা ঝুঁকিতে পড়বেন।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.