সাকিব আহসান,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও ইউএইচএফপিও’র বদলির আদেশ এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। আবেদনটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উদ্দেশে লেখা।এতে একজন নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নাম, পদবি, কর্মস্থল, যোগদানের তারিখ, দায়িত্ব পালনের সময়কাল এবং তার কাজের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
লেখার সারমর্ম হলো ওই কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে নানা ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছেন। হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সঙ্গে আচরণ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় উন্নতির কথা সেখানে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, তার নেতৃত্বে হাসপাতালের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি নিয়মতান্ত্রিক ও সেবামুখী হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট উদ্যোগের কথাও উল্লেখ আছে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা বা অকার্যকর কিছু সেবা পুনরায় চালু করা, জনবল ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা, রোগী হয়রানি কমানো, এবং অভ্যন্তরীণ তদারকি জোরদার করা।
এরপর নথিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে ওই কর্মকর্তার বদলি বা প্রত্যাহারের আদেশের কথা উল্লেখ করার পরে। আবেদনকারীরা দাবি করেছেন, এই বদলি আদেশ হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত, এবং এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকার সময় যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, তা এখনো পুরোপুরি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি; এই অবস্থায় তাকে সরিয়ে নেওয়া হলে আবার পুরোনো অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা ফিরে আসতে পারে। তাই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে অথবা অন্তত তাকে বর্তমান কর্মস্থলেই বহাল রাখতে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ছবিতে দেখা যায়, এই আবেদনের সমর্থনে একটি দীর্ঘ স্বাক্ষর ও নামের তালিকা সংযুক্ত করা হয়েছে। তালিকাগুলোতে ক্রমিক নম্বর, নাম, পদবি, মোবাইল নম্বর এবং স্বাক্ষরের কলাম রয়েছে। এখানে বিভিন্ন স্তরের কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম দেখা যায়—যেমন অফিস সহকারী, ওয়ার্ড বয়, আয়া, টেকনিশিয়ান, সেবিকা, এমনকি স্থানীয়ভাবে যুক্ত কিছু কর্মীর নামও থাকতে পারে। এটি বোঝায় যে, আবেদনটি শুধু একজন বা দুইজনের ব্যক্তিগত মত নয়; বরং প্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশের সম্মিলিত মতামত ও সমর্থনের প্রতিফলন।
তালিকাগুলোর দৈর্ঘ্য ও স্বাক্ষরের সংখ্যা থেকে ধারণা পাওয়া যায়, বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী এই আবেদনকে সমর্থন করেছেন। কেউ কেউ নিজের হাতে স্বাক্ষর করেছেন, কারও ক্ষেত্রে নাম ও নম্বর লেখা আছে। এতে আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্ব বাড়ানোর চেষ্টা স্পষ্ট। একই সঙ্গে এটি প্রশাসনের কাছে একটি বার্তা দেয়।এই বদলি সিদ্ধান্ত শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ও সেবা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করবে।
সব মিলিয়ে, ছবিগুলো একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক আবেদনপত্রের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে। এর কেন্দ্রীয় বিষয় হলো একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বদলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সহকর্মী ও কর্মীদের অসন্তোষ এবং তাকে বর্তমান কর্মস্থলে রাখার জন্য সম্মিলিতভাবে করা অনুরোধ। সংযুক্ত নথিগুলো থেকে বোঝা যায়, এটি কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রশ্ন নয়; বরং স্থানীয় একটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সেবার ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি প্রশাসনিক ইস্যু।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.