ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ দু’টিতে এই দুর্যোগে নিখোঁজ শত শত মানুষকে উদ্ধারে ধ্বংসাবশেষ সরাতে তৎপরতা চলছে।
পাদাং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
চলতি সপ্তাহে প্রবল মৌসুমি বৃষ্টিপাতে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ফলে হাজারো মানুষ নিজেদের বাড়িঘরে আটকা পড়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সুমাত্রা দ্বীপের দু’টি শহরে রোববারও পানি নেমে যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ত্রাণ পৌঁছে দিতে জাকার্তা থেকে দুটি যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে।
জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার প্রধান সুহরিয়ান্তো এক বিবৃতিতে জানান, সেন্ট্রাল তাপানুলি ও সিবোলগা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে পূর্ণ মনোনিবেশ প্রয়োজন। জাহাজগুলো সোমবার সিবোলগায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ২৮৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
পশ্চিম সুমাত্রার রাজধানী পাদাং থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের সুংগাই নিয়ালো গ্রামে আজ বন্যার পানি বেশিরভাগই নেমে গেছে। তবে বাড়িঘর, যানবাহন ও ফসল ঘন কাদায় ঢেকে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এএফপিকে জানান, কর্তৃপক্ষ এখনো রাস্তা পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু করেনি এবং কোনো বাইরের সহায়তাও সেখানে পৌঁছায়নি।
বন্যা ও ভূমিধসে থাইল্যান্ডে ১৬২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ ত্রাণ বিতরণ ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
থাই সরকারের ত্রাণ ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে স্বজন হারানো পরিবারকে সর্বোচ্চ ৬২ হাজার মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ প্রদান।
তবে, থাইল্যান্ডের বন্যা মোকাবিলা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে এবং ব্যর্থতার অভিযোগে স্থানীয় দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত হয়েছেন।
এদিকে মালয়েশিয়ায় উত্তরাঞ্চলীয় পেরলিস প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় দু’জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.