খবরবাড়ি ডেস্কঃ
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার রাঙ্গামাটি কেন্দ্রীয় মহাশ্মশানকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টানাপোড়েন ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান কমিটির সভাপতি দিলীপ চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে শ্মশানসংলগ্ন এলাকার একাংশের বাসিন্দা ও আংশিক শ্মশানভক্তরা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ৩ অক্টোবর শ্মশান মাঠে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ পরিচালনা করেন।
পরবর্তীতে ওই অভিযোগের ধারাবাহিকতায় ৯ অক্টোবর দুপুরে একদল হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সর্বসম্মতিক্রমে অরবিন্দ সরকারকে সভাপতি ও বাসুদেব সরকারকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্যের একটি ত্রিবার্ষিক কমিটি ঘোষণা করেন। নতুন কমিটি ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান কমিটির বর্তমান কার্যক্রম কার্যত বাতিল হয়ে যায় বলে দাবি ওঠে। এতে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এদিকে অভিযোগ ও নতুন কমিটি ঘোষণার প্রেক্ষিতে সভাপতি দিলীপ চন্দ্র সাহা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, “আমি দায়িত্ব পালনকালে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।” একই সঙ্গে তিনি শান্তি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে শ্মশান মাঠে একটি প্রতিবাদ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন।
তার এ বক্তব্যের পর আবারও সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি অংশ নতুন কমিটির সভাপতি অরবিন্দ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব সরকারের নেতৃত্বে শ্মশান মাঠে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে দিলীপ চন্দ্র সাহাকে পুনরায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সনাতনী সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ ও লজ্জার সঞ্চার হয়। জীবনের শেষ আশ্রয়স্থল শ্মশানকে কেন্দ্র করে এমন প্রকাশ্য বিরোধ ও বিভাজনকে ‘নোংরা রাজনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন অনেকে।
পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এমন আশঙ্কায় উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে ১৪ নভেম্বর রাতে পলাশবাড়ী থানার হলরুমে এক দীর্ঘ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের মতামত ও সম্মতি নিয়ে উত্তেজনা নিরসনে একটি নতুন সমঝোতা কমিটি গঠন করা হয়।
সমঝোতা অনুযায়ী শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে সভাপতি এবং শ্রী শ্যামল চন্দ্র সাহাকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, এই কমিটির মাধ্যমে শ্মশান ব্যবস্থাপনা পুনরায় স্বাভাবিক হবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।