খবরবাড়ি নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কাটাবাড়ী ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সাঁওতাল নারীদের বর্ণাঢ্য অংশগ্রহণে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিবসটি ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, আদিবাসী নারীরা একদিকে নারী হিসেবে, অন্যদিকে আদিবাসী পরিচয়ের কারণে সমাজে দ্বৈত বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১১টায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অবলম্বন-এর উদ্যোগে এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ‘আমরাই পারি’-এর সহযোগিতায় গাইবান্ধার কাটাবাড়ী ইউনিয়নে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এতে সাঁওতাল নারীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে অংশ নেন। হাতে ছিল বিভিন্ন দাবী সম্বলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। র্যালীতে স্থানীয় সাঁওতাল ও বাঙালি নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
র্যালী শেষে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে সাঁওতাল ও বাঙালিদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদের মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পল্লবী মুর্মু। এতে বক্তব্য রাখেন অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, কাটাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম, কাটাবাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌড় চন্দ্র পাহাড়ী, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সান্জুয়ারা বেগম ও সাহানা বেগম। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী যুবনেত্রী সোনালী মার্ডি, আলবীনা মুর্মু, সাধনা রানী, সরস্বতী পাহাড়ী, রুমী পাহাড়ী, তারামনী টপ্য, শিল্পী ওরাও, আবিনা টপ্য, মেরিনা মুর্মু ও জ্যোথি মুর্মুসহ স্থানীয় নারীনেত্রীরা।
সভায় বক্তারা বলেন, সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই সৃজনশীল ও উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে পুরুষের পাশাপাশি নারীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা এখনও বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। আদিবাসী নারীদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য আরও প্রকট। তারা নারী হওয়ার কারণে যেমন বৈষম্যের মুখে পড়েন, তেমনি আদিবাসী পরিচয়ের কারণেও নানা বঞ্চনার শিকার হন।
বক্তারা বলেন, বিভিন্ন সময় আদিবাসী নারীরা সহিংসতা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি তাদের অনেককে নিজস্ব ভূমি থেকেও উচ্ছেদ হতে হচ্ছে। কৃষি শ্রমবাজারেও আদিবাসী ও বাঙালি নারী শ্রমিকরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান, যা একটি দীর্ঘদিনের বৈষম্য।
তারা আরও বলেন, মানবাধিকার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা লিঙ্গভেদে বৈষম্য করা মানবাধিকারের পরিপন্থী। এই বৈষম্য দূর করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় আদিবাসী নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ এবং জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।