সাকিব আহসান,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁওঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি পাবলিক গোরস্তান ধীরে ধীরে ভাগাড়ে পরিণত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যে স্থান মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল, যেখানে মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও নীরবতার পরিবেশ থাকার কথা সেই জায়গাতেই এখন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা–আবর্জনার স্তূপ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিষয়টি শুধু ধর্মীয় অনুভূতির অবমাননাই নয়, এটি মানবিকতা ও পরিবেশ উভয়ের জন্যই উদ্বেগজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোরস্তানের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি বর্জ্য, প্লাস্টিক, পচনশীল আবর্জনা এবং অন্যান্য ফেলা দেওয়া সামগ্রী জমে রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব বর্জ্যের স্তূপ বড় হয়ে উঠেছে, যা দেখতে অনেকটা একটি উন্মুক্ত ভাগাড়ের মতো। দূর থেকে দেখলে বোঝা যায়, এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।
গোরস্তানের ভেতরে একটি ছোট কবরস্থান ঘেরা বাঁশের বেড়া চোখে পড়ে, যা দেখে বোঝা যায় কেউ হয়তো সম্প্রতি কোনো কবর রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেই সীমিত উদ্যোগের বাইরে পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে আছে অগণিত ময়লার স্তূপ। এতে কবরস্থানের পবিত্র পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই গোরস্তানের পাশে নিয়মিতভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। আশপাশের কিছু মানুষ ও বাজার এলাকার ময়লা এখানে এনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে জায়গাটি ভাগাড়ের রূপ নিচ্ছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গোরস্তান এমন একটি জায়গা যেখানে আমাদের প্রিয়জনরা চিরনিদ্রায় শায়িত। সেখানে ময়লার স্তূপ তৈরি হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।”
আরেকজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, আগে এই গোরস্তানটি তুলনামূলক পরিষ্কার ছিল। মানুষ নিয়মিত আসত, কবর জিয়ারত করত এবং পরিবেশও ছিল শান্ত। কিন্তু গত কয়েক বছরে অব্যবস্থাপনা ও নজরদারির অভাবে জায়গাটি ধীরে ধীরে নোংরা হয়ে পড়েছে। এতে ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের বিষয়টিও সামনে আসছে বলে মনে করছেন অনেকে।
পরিবেশ সচেতনদের মতে, উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা হলে তা শুধু পরিবেশ দূষণই বাড়ায় না, বরং রোগ জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি করে। পচনশীল আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়, সেখানে মাছি–মশার উপদ্রব বাড়ে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে এমন সংবেদনশীল স্থানে এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত নজরে নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। গোরস্তান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করা জরুরি। পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও সচেতন হতে হবে, যাতে এমন পবিত্র স্থান ভবিষ্যতে আর অবহেলার শিকার না হয়।
মানুষের জীবনের শেষ ঠিকানা হিসেবে গোরস্তান শুধু একটি স্থান নয় এটি স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও মানবিকতার প্রতীক। তাই পীরগঞ্জের এই গোরস্তানকে ভাগাড়ে পরিণত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ মানুষ সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে হয়তো এই পবিত্র স্থান আবারও তার মর্যাদা ফিরে পেতে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.